শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান মঞ্জুর বিরুদ্ধে উেকাচ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাত্, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ এনে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে ১১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া এবং চাকরি নীতিমালা অমান্য করে তাকে হয়রানি করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার এলপিসি মোতাবেক বকেয়া বেতনভাতাসহ অন্যান্য ভাতা চেয়ে সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে পত্র দেন। জবাবে উপসচিব, স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মো. ফারুক হোসেনের স্বাক্ষরিত বেতনের প্রত্যয়নপত্র (এলপিসি) অনুযায়ী বকেয়া ১৬ মাসের বেতন ভাতাসহ প্রভিডেন্ড ফান্ড এবং আনুতোষিক বাবদ প্রাপ্য বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে শ্রীপুর পৌরসভাকে পত্র দেন। তা আমলে না নিয়ে তাকে সকল বকেয়া পরিশোধের বিপরীতে ৪ লাখ টাকা উেকাচ প্রদানের জন্য চাপ দেন নির্বাহী কর্মকর্তা। অন্যথায় বিল হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
তার মাসিক বেতনের বকেয়া বাবদ ৯ লাখ টাকা পেতে নির্বাহী কর্মকর্তার অনৈতিক শর্তের ৪ লাখ টাকা ঘুষ বাবদ দিতে বাধ্য হন ভুক্তভোগী। পরে গ্র্যাচুইটি ফান্ডের (জিএফ) তার প্রাপ্য ২৬ লাখ টাকা নিতে গেলে আরো ৭ লাখ টাকা দাবি করেন ঐ কর্মকর্তা। অবশেষে তাতেও তিনি রাজি হন। হাতে টাকা না থাকায় তার ভবিষ্যত্ কল্যাণ তহবিল থেকে ঋণ উত্তোলন করে চাহিদা পূরণ করা হয়। পরবর্তীকালে ব্যাংক লেনদেনের বিবরণী তুলে দেখা যায়, জিএফ ফান্ডে ২৬ লাখ টাকা থাকার কথা থাকলেও আছে ১৬ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে তাকে জানানো হয়, বাকি টাকা পরে জমা দেওয়া হবে।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা থেকে গত ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর পদোন্নতি পেয়ে শ্রীপুর পৌরসভায় যোগদান করেন।