কুইন্টন ডি কক ও ডেভিড মালান। দুজনেই ওপেনার। দুজনেই বাঁহাতি। দুজনেই ধুমধারাক্কা ব্যাটিংয়ের প্রতীক। নিজেদের দিনে ব্যাট হাতে মাঠের বাইশগজি জমিনে ঝড় তুলে একাই গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ জমে উঠতে পারে দুজনের ব্যাটিং লড়াই।
কুইন্টন ডি ককের বয়স মাত্র ৩০। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগেই ঘোষণা দিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপই হবে তার শেষ। কি কারণে এত তাড়াতাড়ি অবসরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মেই রয়েছেন তিনি।
এই বিশ্বকাপেই নিজের প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে করেছেন সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০০ রান করা ডি কক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয ম্যাচে খেলেন ১০৯ রানের ইনিংস। তার সেঞ্চুরির সুবাদে ওই দুই ম্যাচেই জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ডি ককের ব্যাট হাসেনি, করেছেন মাত্র ২০ রান। তার দলও জিততে পারেনি।
ক্যারিয়ারে এটা ডি ককের তৃতীয় বিশ্বকাপ। সব মিলে বিশ্বকাপে খেলেছেন ২০টি ম্যাচ। তাতে ৬৭৯ রান করা ডি কক সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন এবারই প্রথম। সব মিলে ১৪৮ ম্যাচে করেছেন ৬৪০৫ রান, সেঞ্চুরি ১৯টি। আজকের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ সফল তিনি। ১৭ ম্যাচের তিনটিতেই করেছেন সেঞ্চুরি, ৪টিতে হাফসেঞ্চুরি। সব মিলে ১৭ ম্যাচে করেছেন ৯০২ রান। এই ডি কক আজও ইংলিশদের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারেন।
৩৬ বছর বয়সি ডেভিড মালান সব মিলে ওয়ানডেই খেলেছেন মাত্র ২৪টি। তাতেই তিনি করেছেন ১২৩২ রান। সেঞ্চুরি করেছেন ৬টি, সঙ্গে হাফ সেঞ্চুরিও আছে ৫টি। মানে ২৪ ম্যাচের ১১টিতেই ৫০ উর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন। বিশ্বকাপ রোমাঞ্চ গায়ে মাখছেন এবারই প্রথম। আর প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসে এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন সেঞ্চুরির স্বাদও।
গত ১০ অক্টোবর ধর্মশালায় এই ডেভিড মালানই ১০৬ বলে ১৪০ রানের ইনিংস খেলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। বাকি দুই ম্যাচে খেলেছেন ১৪ ও ৩২ রানের ইনিংস। আজকের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও দুর্দান্ত তার ব্যাট। এ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেছেন। তার একটিতে উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি, একটিতে করেছেন হাফসেঞ্চুরি। তিন ম্যাচে ৬৩.০০ গড়ে করেছেন মোট ১৮৯ রান। আজকের দিনটাও হতে পারে তার।