মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও শিবালয় প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারি নিষিদ্ধ সময়ে নির্দেশনা অমান্য করে কিছু অসাধু ও মৌসুমি জেলে পদ্মায় মা-ইলিশ শিকার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, দেশব্যাপী মা-ইলিশ রক্ষায় ১২ অক্টোবর থেকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন পর্যন্ত মা-ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষিদ্ধ অমান্য করে হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মা-ইলিশ নিধন ও বিক্রয় করা হচ্ছে নিয়মিত। এসব জেলেরা এবং তাদের নিজ নিজ এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, সরকারদলীয় কয়েক জন নেতাকর্মী, দৈনিক বেতনভোগী ৩০/৩৫ জন তথ্য সরবরাহকারীর সমম্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মা-ইলিশ নিধনে সমন্বিত সিন্ডিকেট। প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে এদের রয়েছে খবর দেওয়ার লোক। নদীতে প্রশাসনের অভিযানের খবর তারাই পৌঁছে দেন জেলেদের কাছে।
গত কয়েক দিন শিবালয় ও হরিরামপুরের পদ্মায় কয়েকটি চরাঞ্চল সরেজমিন এমন তথ্য পাওয়া গেছে। হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলার চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে পদ্মায় মা-ইলিশ রক্ষা অভিযানে কোনো ফলই হচ্ছে না। নামমাত্র অভিযানের কারণে কৌশল পালটে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জেলেরা। এছাড়াও অনেক জেলে দূর থেকে প্রশাসনের স্পিডবোট কিংবা ট্রলার দেখা মাত্রই দ্রুতগতিতে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান। পদ্মা এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মত্স্য বিভাগ, পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনী নদীতে অভিযানে নামলে মোবাইল ফোনে মা-ইলিশ নিধনকারী জেলে ও মৌসুমি জেলেদের সাবধান করে দেওয়ার জন্যও রয়েছে নিজস্ব সোর্স। তারা নদীর পাশে তীরবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয় তথ্য ফাঁস করার জন্য।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চর এলাকায় প্রতিদিনই ইলিশ শিকার করে যাচ্ছেন কতিপয় অসাধু ও মৌসুমি জেলে। রাতে পদ্মা নদী থেকে ইলিশ ধরে মোটরসাইকেলযোগে বিক্রয় করতে নিয়ে আসেন সুতালড়ি ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাটগ্রাম চর, ভগবান চর, নটাখোলা চরসহ আজিমগরের হাতিঘাটার প্রতিটি গ্রামে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন জানান, প্রশাসন অভিযানে গেলে জেলেরা আগেই খবর পেয়ে পালিয়ে যান। অভিযান শেষে প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর পুনরায় নদীতে নেমে ইলিশ নিধনের মহোত্সবে মেতে ওঠেন জেলেরা। ফলে চতুর এসব জেলেদের আটকও করা যাচ্ছে না। ফলে প্রশাসনিক পর্যায়ে জোরদার অভিযানের সফলতা আনতে নৌকাগুলো এক মাসের জন্য জব্দ করার জোর দাবি জানিয়েছে অভিজ্ঞ মহলসহ প্রকৃত জেলেরা।
আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় ডিমওয়ালা ইলিশ নদীতে বেশি ধরা পড়ে। আর এখন এর দাম ভালো পাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু জেলে এ মাছ ধরে। চরাঞ্চলের এদিকে প্রশাসনের অভিযান ও তত্পরতা কম বলে জেলেরা এ সময়েও ইলিশ ধরা অব্যাহত রেখেছে। হরিরামপুর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইকরাম জানান, ‘প্রতিদিনই নদীতে অভিযানে গিয়ে কারেন্ট জাল ও মা-ইলিশ উদ্ধার করছি। আমাদের যাওয়ার খবর পেলে ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থল যাওয়ার আগেই জেলেরা পালিয়ে যায়, এরকম তথ্য আমার কাছেও এসেছে। মা-ইলিশ রক্ষায় এবং অসাধু জেলেদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘চব্বিশ ঘণ্টা মোবাইল টিম কাজ করছে। মা-ইলিশ নিধনে কারো কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। পদ্মায় অভিযান চালিয়েছি। কাউকে পাইনি। সরকারি কোনো নৌকা নেই। হতে পারে ঘাট থেকেই অভিযানের খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’