দেশের ফুটবল আগের চেয়ে অনেক ভালো পথে। জাতীয় দল এখন পথ খুঁজে পাচ্ছে। রেজাল্ট দিচ্ছে। সাফ থেকে শুরু করে একের পর এক বাংলাদেশের ফুটবল ভালো খবর দিচ্ছে। ফিফার র্যাংকিংয়েও বাংলাদেশ ওপরে ওঠার চেষ্টা করছে। ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ম্যাচ খেলে মালদ্বীপকে হারিয়ে বাংলাদেশ এখন গ্রুপে খেলবে। যেখানে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, লেবানন এবং ফিলিস্তিন। আগামী এক বছর এই তিন দলের বিপক্ষে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে বাংলাদেশ খেলবে ছয়টি ম্যাচ। কঠিন ম্যাচ। আকর্ষণীয় ম্যাচ। দেশের ফুটবল দর্শকরা যেমনটি চেয়েছিলেন, অন্তত বাংলাদেশ ভালো খেলবে। সেটি করেই আজ একটা পর্যায়ে উঠেছে।
আগামী ১৭ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম খেলা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। ছয় দিন পরই ঢাকায় লেবাননের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ। এই ফিকশ্চার অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া যাওয়া আসার জন্য বাফুফের খরচা হবে ১ কোটি টাকার ওপরে। এর আরো ম্যাচ তো রয়েই গেছে। গ্রুপের তিন দেশের ম্যাচ খেলতে হবে তিন দেশে গিয়ে, প্রতিপক্ষ তিন দলও বাংলাদেশে এসে খেলবে। এটাই হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের খেলার পদ্ধতি। অস্ট্রেলিয়া, লেবাননকে ছাপিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠার সম্ভবনা কতটুকু তা দেশের ফুটবল দর্শক বুঝতে পারেন, যদি মিরাকল কিছু না ঘটে। তবে এই ছয় ম্যাচের বাইরেও রয়েছে আরো ছয় ম্যাচ। এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে খেলার সুযোগ আছে। সেটিও একই পদ্ধতিতে।
এক কথায় পরিষ্কার দেশের জাতীয় ফুটবল দল অনেক বেশি ব্যস্ত থাকবে আসছে বছরে। মালদ্বীপের বিপক্ষে এক ড্র এবং এক জয়ের কারণেই সেই সুযোগ এসেছে। এখন বাকি ম্যাচগুলো খেলতে ফুটবল দলের জন্য চাই টাকা। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জাতীয় দলের স্পন্সর চাইলেন। অন্তত অস্ট্রেলিয়া, লেবানন এবং ফিলিস্তিন ম্যাচের জন্য যদি কেউ স্পন্সর করে সেটা গ্রহণ করবে বাফুফে। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শুধু আসছে ছয় ম্যাচই না, কেউ যদি সব সময়ের জন্য দেশের জাতীয় ফুটবল দলকে স্পন্সর করতে চায় সেটিও করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশের ফুটবলের পাশে থাকতে পারে। আমরা স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমন্ত্রণ জানাই। আসুন ফুটবলের পাশে থাকুন।’
মালদ্বীপকে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠায় বোনাস ঘোষণা করেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। বোনাস ইস্যুতে গতকাল বাফুফে জরুরি সভায় বসে। সভা শেষে কাজী সালাহউদ্দিন নিজেই কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘৬০ লাখ টাকা বোনাস দেওয়া হচ্ছে দলকে।’ সঙ্গে এটাও উচ্চারণ করেন যে, আর্থিক সংকটও রয়েছে। তাই বলে বোনাস দেওয়াটা ঠিক হবে না। এটাও মানতে রাজি না তিনি। সারা দুনিয়ায় ফুটবলারদের জন্য এই কালচার থাকলেও পাকিস্তান, নেপালও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে তারা ঘোষণা দেয়নি। তাতে কিছু যায় আসে না বাফুফের।
সালাহউদ্দিনের কথা হচ্ছে, জাতীয় দলের এই ফুটবলাররা যদি পরিশ্রম করে একটা সাফল্য এনে দেন তাহলে কেন তাদেরকে বোনাস দেওয়া যাবে না। ওরা যদি জাতীয় দলে না খেলতে চায় আমি করব। ফিলিস্তিন, লেবাননের বিপক্ষে ভালো করলে এই বোনাস আরো বেড়ে যাবে।’ বাফুফের কাছে দেনা আছে। সালাহউদ্দিন বললেন, ‘সবকিছু নিয়েই চলতে হয়। দেনা থাকবে খেলাও চলবে। বকেয়ার কারণে যদি বোনাস দেওয়ার বিষয়ে কথা হয় তাহলে জাতীয় দলও বন্ধ করে দিতে হয়। কথা সেটা না। যাদের বকেয়া রয়েছে সেটা দিতে হবে খেলাও চলতে হবে।’