কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় পকেট কমিটি দিয়ে অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে টাপুরচর (বিজি) বালুরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। পরে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চাঁন মিয়ার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। বিক্ষোভ শেষে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনির কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা।
রোববার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের টাপুরচর (বিজি) বালুরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিদ্যালয় মাঠে মো. মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন প্রভাষক খলিলুর রহমান, প্রভাষক মিজানুর রহমান, মাস্টার রফিকুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আশরাফ আলী, নূরুল হুদা, শিক্ষক প্রতিনিধি কামরুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল্লাহ, মোখলেছুর রহমান, সহকারী শিক্ষক, আমির হোসেন, ইউছুব আলী, আরঙ্গজেবসহ অনেকেই।
তাদের ভাষ্য, অবিলম্বে এ অবৈধ নিয়োগ ও পকেট ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকেও অপসারণ করতে হবে। যদি তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আমরা সামনে আরও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমরা আজ বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়েছি। শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেছেন। আগামীতে ছাত্র/ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিবে। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি করছি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণির ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিদ্যালয়ের সভাপতির দাবি, রেজুলেশনের মাধ্যমে সবার সামনে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান খান বলেন, বিদ্যালয়ে তালা ঝুলানোর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপাভাইজারকে সরেজমিন তদন্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) মো. শামছুল আলম জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ঠিক করেননি এবং তারা আইন হাতে তুলে নিয়েছেন। তাই তাদের বলছি যত দ্রুত সম্ভব তালা খুলে দেওয়ার জন্য।
প্রসঙ্গত, টাপুরচর (বিজি) বালুরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে প্রধান শিক্ষককের শ্যালিকা মর্জিনা বেগম ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী মিতা রানীকে আয়া পদে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে গোপনে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চাঁন মিয়া। নিয়োগ বাণিজ্যের ১১ মাস পর তথ্য ফাঁস হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীসহ এলাকার লোকজন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন। পরে মানবন্ধন, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন তারা।