সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং এর কারণে বড় হওয়ার পর তাদের আয়ের সক্ষমতাও প্রভাবিত হয়। বিপজ্জনক ধাতব সিসার দূষণ এবং এর কারণে শিশুদের ক্ষতিজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যাসিড ব্যাটারির অবৈধ পুনর্ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ ও সতর্ক করার কথা বলেন এ সম্পর্কিত এক সংলাপে বক্তারা।
তারা বলেন, অবৈধ পুনর্ব্যবহার সিসার সংস্পর্শে আসার একটি প্রধান উত্স। এটি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্যই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই নীতিনির্ধারকরা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
গতকাল আগারগাঁওস্থ পরিবেশ অধিদপ্তর ডিওই মিলনায়তনে সংলাপের আয়োজন করে ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগ, ইএসডিও। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইএসডিওর চেয়ারপারসন ও সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইমা ব্রেগহাম। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হলুদে উচ্চ মাত্রায় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মান নির্দেশক হিসেবে রঙ ও ওজন বাড়ানোর জন্য ব্যবহূত লেড ক্রোমেট শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমানভাবে রক্তে সিসার মাত্রা বৃদ্ধিতে প্রভাবিত করে।
সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের সক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং জীবনে সুযোগগুলোর সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সিসা-এসিড ব্যাটারিগুলোর অনানুষ্ঠানিক ও নিম্নমানের পুনর্ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত করে। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দিন দিন বাড়ছে এর দূষণ। যানবাহনের মালিকানা বৃদ্ধির পাশাপাশি গাড়ির ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বিষয়ক নিয়মকানুন ও অবকাঠামোগত ঘাটতি অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে পুনর্ব্যবহারে সিসা দূষণ বেড়ে যাচ্ছে। যা কঠোর নিয়মানুবর্তী ও নজরদারির মধ্যে আনার বিষয়ে বলেন তারা। এ সংক্রান্ত বিদেশি পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শিশু সিসার বিষের মারাত্মক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।