ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্যার ববি চার্লটন। বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ইংলিশ দলের ফুটবলার। এই সাবেক ফুটবলার শনিবার মারা গেছেন। এখনকার ফুটবল প্রজন্ম অনেকের কাছেই ববি চালর্টন খুব একটা পরিচিত না। ৮০-র দশক পর্যন্ত ফুটবল দুনিয়ায় ববি চার্লটনের তত্পরতা ছিল বেশ। এর পর থেকে ববি চার্লটনকে ফুটবল পর্দায় দেখা যায়নি। ইংল্যান্ড ফুটবলের কিংবদন্তি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবলে।
১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হন। এরপরই ইংলিশ ফুটবল গোটা দুনিয়া দাপিয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি ইংল্যান্ড। বেকহাম, ওয়েন রুনি, হ্যারিকেইনের মতো বড় বড় ফুটবল তারকার জন্ম দিলেও ইংল্যান্ডের দুঃখ মুছতে পারেনি কেউ। আরেক বার ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি জয় করতে পারেনি। ৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর ১৪ বার বিশ্বকাপ হয়েছে। একবারও ফাইনালে উঠতে পারেনি। সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। আশা করে ছিলেন ববি চার্লটন, তার উত্তরসূরিরা ববি চার্লটনের হাতে ট্রফি এনে দিবে। হয়নি স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আরেক বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ছবিটা দেখে যেতে পারলেন না। ১১ অক্টোবর জন্ম, মারা গেলেন ২১ অক্টোবর পরলোকে যাওয়া ববি চার্লটন স্যার উপাধি পাওয়া ইংলিশ তারকা।
স্মৃতিভ্রমজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি বহুদিন ধরে। ২০২০ সালে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি সুস্থ হওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আর পারলেন না। থেমে গেল দৌড়। ৮৬ বছর বয়সে তার প্রয়াণে শোকের ছায়া ইংল্যান্ডসহ বিশ্ব ফুটবলে। ববি চার্লটনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে তারা ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রেড ডেভিলসদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ক্লাবের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় প্লেয়ার স্যার ববি চার্লটনের চলে যাওয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গভীরভাবে ব্যথিত। স্যার ববি অনেকের হিরো ছিলেন। শুধু ম্যানচেস্টার নয়, বিশ্বের যেখানেই ফুটবল খেলা হয় সেখানেই তিনি হিরো।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইয়ুথ দল থেকে উঠে আসা এই ফুটবল তারকা জায়গা পান সিনিয়র দলে। ক্লাবের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রয়েছেন তিনি। ২০ বছর বয়সে তিনি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে বাঁচেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তিনি ৭৫৮টা ম্যাচ খেলেছেন। করেছেন ২৪৯টা গোল এবং তিনি তিনটি লিগ কাপ ও একটা এফ এ কাপ জিতেছেন। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১৯৬৮ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছেন। ফাইনালে বেনফিকার বিরুদ্ধে দুটো গোলও করেন। সেই ম্যাচে ইউনাইটেড জেতে ৪-১ গোলে।
১৯৬৬ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের জয়ের পর হিরো হয়ে ওঠেন চার্লটন। ফাইনালে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন তিনি। সেই বছর তিনি ব্যালন ডি’অর পান। এবং ইউরোপের সেরা প্লেয়ারের সম্মানও পান।
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডেভিড বেকহাম বলেন, ‘আমি তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’ গ্যারি নেভিল লেখেন, ‘একজন আইকন, একজন লিজেন্ড এবং তার প্রয়াণ বিশ্বের কাছে একটা বড় ক্ষতি। তিনি ইংল্যান্ড ফুটবলের সেরা প্লেয়ার।’ ইংল্যান্ড ফুটবল দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসে তারা স্যার ববি চার্লটনকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করবে। ওয়েম্বলিতে একটি অনুষ্ঠান করা হবে। সেখানে ইংল্যান্ড খেলবে মালটার বিপক্ষে। ৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল ওয়েম্বলির মাঠে।