সত্যজিত্ বিশ্বাস
জোকস কী?
জোকস হলো তিন অক্ষরের এক দুর্দান্ত ধাঁধা। শেষের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোক’, মাঝের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোস’ আর শেষের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘কস’। কোনো একটা কনটেন্টকে জোঁকের মতো চেপে ধরে তার কষ বের করতে করতে জোস উপস্থাপনাই হলো জোকস।
নিজেই যখন জোকস
জীবনে প্রথম জোকস বলব বলে স্টেজে উঠেছি। নার্ভাসনেসের কারণে কোনো দিকে না তাকিয়ে হড়বড় করে বলে গেলাম শিখে আসা জোকস। পুরো জোকস না থেমে শেষ করার আনন্দে হাসতে হাসতে অডিয়েন্সের দিকে তাকিয়ে দেখি, তারা অপেক্ষা করছে, হাসির অংশটুকু শোনার আশায়।
কী প্রমাণ হয়?
আমি :আজ পর্যন্ত তুই আমার একটা জোকস পড়েও হাসলি না। তাতে কী প্রমাণ হয় জানিস?
বন্ধু :জানব না কেন! তাতে প্রমাণ হয়, তোর জোকস হাসির হয় না।
আমি :জি না, তাতে প্রমাণ হয়, তুই হাসতেই জানিস না।
সবাই তো আর বেরসিক না
জোকস লেখক :কী ব্যাপার, এত জোকস লিখি, ছাপেন না কেন?
ঠাট্টা সম্পাদক :জোকস পড়ে, হাসি না পেলে ছাপব কেন?
জোকস লেখক :আপনার একার জন্য এতগুলো মুখের হাসি কেড়ে নেবেন?
ঠাট্টা সম্পাদক :তার মানে?
জোকস লেখক :আপনার হাসি পায় না, তাই বলে সবাই তো আর বেরসিক না।
কীসের মধ্যে কী!
ছয় কর্পোরেশনেরই লোকসান বাড়ছে দেখে সংবাদপত্রের এক রিপোর্টার কারণ অনুসন্ধানে বিবৃতি নিতে এসেছেন একটি কর্পোরেশনের প্রধানের কাছে।
রিপোর্টার :কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেওয়ার আগে নিশ্চয়ই কারো সাথে পরামর্শ করেন?
প্রধান কর্মকর্তা :অবশ্যই করি।
রিপোর্টার :কার সাথে করেন?
প্রধান কর্মকর্তা :সে কথা আপনাকে বলব কেন? তাছাড়া এসব রাজনীতির মধ্যে আমার স্ত্রীকে টেনে আনছেন কেন বলুন তো?
সংসারে সুখ কই থাকে?
প্রথম বন্ধু :তুই তো বিয়ে করেছিস দুই বছর হলো, একটা জিনিস বল তো।
দ্বিতীয় বন্ধু :কী জিনিস?
প্রথম বন্ধু :সংসারে সুখ কই থাকে?
দ্বিতীয় বন্ধু :চিনি যেখানে থাকে।
প্রথম বন্ধু :তার মানে?
দ্বিতীয় বন্ধু :সংসারে বউরা রান্নাঘরের আলমিরার কোন তাকে, কোন বড় প্লাস্টিকের কৌটার ভেতরে কাচের বয়াম ঢুকিয়ে তার ভেতরে চিনি রাখে, তা যেমন কোনো স্বামী হাজার খুঁজেও বের করতে পারে না; তেমনি সুখও কই থাকে, সেটা কোনো স্বামীর পক্ষে জানা সম্ভব না।
এর বাইরে কিছু হবে না
দুই বন্ধু হোটেলে ঢুকে খাবার অর্ডার দেওয়ার জন্য মেন্যুকার্ড দেখছিল। এক বন্ধু অন্যজনকে ইশারায় দেখাল, বেয়ারা কিভাবে পেছনে দাঁড়িয়ে অনবরত মাথা চুলকাচ্ছে। অন্য বন্ধু বেয়ারাকে নিয়ে মজা করার জন্য বলল, কী ব্যাপার, উকুন আছে নাকি?
বেয়ারা :মেন্যুতে যা আছে, এর বাইরে কিছু হবে না স্যার।
দেখাদেখি
এক কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে শীতকালে গ্রামে গিয়েছেন। মেঠো পথে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের এক লোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।
কবি :সূর্যের সোনা রং কেমন একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে আকাশের নিটোল নীল যৌবনদীপ্ত অঙ্গে। লক্ষ লক্ষ শিশির বিন্দু কেমন মুক্তার মতো ছড়িয়ে আছে গ্রামজুড়ে থাকা সবুজ রঙা শাড়িতে। আহ্, তোমরা কী ভাগ্যবান! এই দৃশ্য রোজই দেখতে পাও, তাই না?
গ্রামের লোক (কবির দিকে ভালো করে তাকিয়ে) :জি না। আজই প্রথম দেখলাম।
স্মার্ট ফোন আর সতীনের মধ্যে পার্থক্য কী শুনি?
স্বামী :কেমন লাগে বলো? ভেবেছিলাম একটা সুন্দর, স্মার্ট ফোন কিনব, বাজেটে স্মার্ট ফোনের দাম বেড়ে গেল।
স্ত্রী :খুব ভালো হয়েছে। আমি খুব খুশি হয়েছি।
স্বামী :কেন?
স্ত্রী :স্মার্ট ফোন আর সতীনের মধ্যে পার্থক্য কী শুনি?
স্বামী :কী বলো এসব!
স্ত্রী :ঠিকই বলি। সারাদিনে একটা স্মার্ট ফোন যতবার তোমার আদর আর ছোঁয়া পায়, তার একভাগও কি আমি পাই?
ঠাকুরঘরে কে রে?
দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ব্যস্ত এক অফিসে একটা কাজের জন্য এসে এক লোকের তো মাথা খারাপ অবস্থা। কোনো সিটে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক পিয়নকে পাওয়া গেল। সেও হন্তদন্ত করে বের হয়ে যাচ্ছিল।
লোকটি :বেলা ১১টা বাজে, আজ কেউ অফিসে আসেনি?
পিওন :এসেছিল তো সবাই।
লোকটি :তাহলে কাউকে দেখছি না, যে। গেল কই?
পিওন :একটু আগেই জরুরি চিঠি এসেছে তো, তাই দেখে সবাই বের হয়ে পড়েছে।
লোকটি :কী এমন চিঠি যে সবাই সাথে সাথেই বের হয়ে পড়ল?
পিওন :এত কথা বলার সময় নাই রে ভাই, আমি গেলাম। বেশি কৌতূহল থাকলে পড়ে দেখতে পারেন, ওই যে টেবিলের ওপর চিঠিটা।
লোকটি কৌতূহল দমাতে না পেরে টেবিলের সামনে গেল। খামে প্রেরক, প্রাপক কিচ্ছু লেখা নেই। ভেতরে এক লাইনের ছোট্ট একটা চিঠি। তাতে লেখা, সব ফাঁস হয়ে গেছে, পালাও।
লাইফ জোকস
একজন রম্য লেখক তার লেখা শেষ করে মাঝরাতে শুতে এসে দেখে, মুখ কালো করে তার বউ কী যেন একটা গল্পের বই মন দিয়ে পড়ছে।
রম্য লেখক :এই মধ্যরাতে কী সব মন খারাপ করা গল্পের বই পড়ছ? জোকসের বই, রম্য গল্পের বই, এসব পড়বে, বুঝলে? তাতে প্রাণখোলা হাসিও আসবে, রাতে ঘুমও ভালো হবে।
লেখকের বউ :সে চেষ্টাই তো করছিলাম এতক্ষণ। উল্টো কান্না পাচ্ছে বইটা পড়ে।
রম্য লেখক :তাই নাকি? অবশ্য কী আর বলব, ইদানীং কিছু লেখক যা তা লিখেই নিজেকে রম্য লেখক মনে করে বই বের করে ফেলছে। পড়লে হাসি তো দূরের কথা, কাশিও আসে না। তা, কার লেখা বইটা?
লেখকের বউ :কেন, তোমার।
লাইভ জোকস
বউ :সারাদিন মাথা গুঁজে কী এত লেখ?
রম্য লেখক :জোকস লেখি গো বউ। এগুলো পেপারে ছাপা হলে, সারা দেশের মানুষ পড়বে আর হাসবে।
বউ :তোমার জোকস পড়ে মানুষ হাসবে? এ কথা শুনেই তো হাসি পাচ্ছে।
রম্য লেখক :এটুকু শুনেই হাসি পাচ্ছে? তাহলেই বোঝ, কত বড় রম্য লেখক আমি।
সেটা জানাতে টিভি লাগবে কেন?
লেখক :আমার লেখা সিরিয়াল নাটকটি টিভিতে দেখাচ্ছে। দেখেছেন?
প্রতিবেশী :না ভাই, জানতাম না।
লেখক :এ সপ্তাহে দুই পর্বে প্রচারিত হবে নায়ক-নায়িকার ঝগড়ার অংশ। দেখে জানাবেন কিন্তু।
প্রতিবেশী :সেটা জানাতে টিভি লাগবে কেন? রোজ রাতে আপনার আর ভাবির রিহার্সেল শুনি তো।
তরুণ আহসান হাবীব!
এক কিশোর :আমি কিছু জোকস লিখে এনেছি, ছাপানোর জন্য।
পত্রিকার রম্য সম্পাদক :কই দেখি? ওয়াও! এগুলো আপনি লিখেছেন?
কিশোর :অবশ্যই, প্রতিটা জোকস আমার লেখা।
পত্রিকার রম্য সম্পাদক (উঠে দাঁড়িয়ে) :ও, তাহলে আপনিই সেই দেশবরেণ্য জোকস সম্রাট আহসান হাবীব! ‘উন্মাদ’-এ লেখা এ জোকসগুলো কতবার যে পড়েছি। আপনি যে বয়সে এত তরুণ, তা তো জানা ছিল না।
বলা বাহুল্য, রম্য সম্পাদকের কথা শেষ করার আগেই তরুণ এক দৌড়ে হাওয়া।
ইন্টারভিউ
রেলের ইন্টারভিউ চলছে...
প্রশ্নকর্তা :ট্রেন আর মানুষের মধ্যে মিল কোথায়?
উত্তরদাতা :দুই জিনিসেরই ধোঁয়া ছোটে, শব্দ হয়। তবে ট্রেনের ছোটে সামনে দিয়ে আর মানুষের ছোটে পেছন দিয়ে।
প্রশ্নকর্তা :কার চলন ক্ষমতা বেশি—ট্রেনের না মানুষের?
উত্তরদাতা :অবশ্যই মানুষের। ট্রেন তো শুধু লাইন দিয়ে চলতে পারে। আর মানুষ লাইন, বেলাইন সব জায়গাতেই চলতে পারে।
প্রশ্নকর্তা :বলেন তো, ট্রেনের সময়সূচিতে ১২টার পর ১টা, ২টা এভাবে না লিখে ১৩টা, ১৪টা এভাবে লেখা থাকে কেন?
উত্তরদাতা :লেট হলে উত্তেজিত আমজনতা যাতে হিসাব করে কূল না পায়, ট্রেন কতক্ষণ লেটে আছে।
দাম্পত্য
বউ :কী ব্যাপার, শুতে এলে যে? যাও, নিয়ে এস।
আফজাল সাহেব :ক্লান্তি লাগছে। তুমি নিয়ে এস না, প্লিজ।
বউ :কী বললে? বাসার সব কাজ করি আমি, আর ক্লান্তি লাগছে তোমার?
আফজাল সাহেব :হয়েছে, হয়েছে। আমিই আনছি। কোথায় রেখেছ?
বউ :ন্যাকা, কোথায় আবার? ওয়ারড্রোবে। আস্তে আস্তে ওয়ারড্রোব খুলো। বাচ্চাদের ঘুম ভেঙে যাবে।
আফজাল সাহেব :এটা কোনো কথা হলো? সবসময় আমাকেই কেন করতে হবে?
বউ :সুখি দাম্পত্যের এটাই তো নিয়ম।
ওয়ারড্রোব থেকে বের করে চার দেয়ালে দড়ি বাঁধতে বাঁধতে আফজাল সাহেব ফিসফিস করে বললেন, মাঝে মাঝে মশারিটা তুমিও তো টানাতে পার।
ভাংচুর করতে হবে কেন?
স্ত্রী :ইচ্ছা করে সব ভেঙেচুরে বাপের বাড়ি চলে যাই।
স্বামী :ভাঙচুর করতে হবে কেন? সব নিয়েই চলো না...
ট্র্যাপ জোকস :১
বিদেশ থেকে দাতা সংস্থার ভিজিটর এসেছেন হাসপাতাল পরিদর্শনে। হাসপাতালের আনাচে কানাচে ভালো করে খেয়াল করে বুঝতে পারলেন ময়লা পরিষ্কারের ব্যাপারে এরা মোটেও সচেতন নয়। তাই হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করলেন।
জানালার গ্লাসে জমাট ধুলার ওপর একটা পাখির ছবি এঁকে আয়াকে বললেন, কিছু দেখা যায়?
আয়া খুশি হয়ে বলল, কী যে বলেন স্যার, যায় মানে, বেশ দূর থেকেই খুব সুন্দর দেখা যায়! মনে হচ্ছে পাখিটা যেন উড়ছে, আহ কী জীবন্ত!
এবার নার্সদের ডেকে রোগীদের পাশে রাখা সাইড টেবিলের ধুলার ওপর একটা ফলের ছবি এঁকে বললেন, কিছু দেখা যায়?
নার্সরা অবাক হয়ে বলল, খুব যায় স্যার। টসটসে আপেল। মনে হচ্ছে এইমাত্র গাছ থেকে পেড়ে আনা হলো।
সিঁড়ি দিয়ে হাঁটতে গিয়ে দেখলেন, প্রতিটা সিঁড়ির কোনায় কোনায় জমে আছে ময়লা। মাথা ঠাণ্ডা করে আঙুল দিয়ে একটা ঝাড়ু আঁকলেন। ‘কী, কিছু দেখা যায়?’ ঝাড়ুদাররা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, ‘যায় স্যার। কী সুন্দর ঝাড়ু!’
দাঁত কিড়মিড় করতে করতে এবার ঢুকলেন হাসপাতালের ল্যাব রুমে। টেবিলের কোনায়, সেলফের ওপরে, ইন্সট্রুমেন্টের ওপরে জমাট ধুলার আস্তরণ। ল্যাব রুমের সবাইকে সেলফের সামনে নিয়ে এসে একটা চশমা এঁকে হেসে বললেন, ‘কিছু দেখা যায়?’
ল্যাব অ্যাসিস্টেন্টরা নিজেদের চশমা মুছতে মুছতে বলল, ‘স্যার, ইউ আর সো সুইট!’
বাথরুমের আনাচে কানাচে ময়লা। বেসিনে ধুলার আস্তরণ। ক্লিনারদের সবাইকে জড়ো করে বললেন, ‘বাথরুমের চারদিকে তাকাও তো। কিছু দেখা যায়?’
ততক্ষণে বাকি সবার কাছ থেকে ওরা জেনে গেছে, স্যার খুব ভালো আঁকে। চারপাশ খুঁজে হতাশ হয়ে একজন বলল, ‘কিছুই তো দেখা যায় না স্যার। আপনি তো কিছুই আঁকেননি।’
ভিজিটর রেগেমেগে সবাইকে মিটিং রুমে ডাকলেন। সেই রুমের টেবিলের ওপরে ধুলার আস্তরণ দেখে বললেন, ‘দয়া করে সবাই আমার আঙুলের দিকে খেয়াল রাখেন।’ তারপর আঙুল দিয়ে ময়লা ফেলার একটা ঝুড়ি এঁকে সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এবার বোঝা গেল কিছু?’
হাসপাতালের ম্যানেজার হেসে বললেন, ‘বোঝা যাবে না কেন? আমরা সবাই বুঝেছি।’
ভিজিটর খুব উত্সাহ নিয়ে বললেন, ‘কী বুঝলেন?’
—স্যার, আপনার আঁকার হাত দুর্দান্ত আর যেকোনো জায়গায় কাগজ-কলম ছাড়াই যেকোনো কিছু এঁকে ফেলতে পারেন।
মোরাল :কাজের জায়গায় ছবি আঁকা ঠিক না।
ট্র্যাপ জোকস :২
এক চিত্র প্রদর্শনী দেখতে গেল দুই বন্ধু, মন্টু আর ঝন্টু। একটা ছবি দুজনেরই দারুণ ভালো লাগল। কিন্তু ছবিটা দেখে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হলো। কথায় কথায় তর্ক আর তর্ক থেকে বাজি লাগল দুজন। দশ হাজার টাকার বাজি। ছবিটা দেখে মন্টুর ধারণা এটা সূর্যোদয়ের ছবি। ঝন্টু বলছে এটা সূর্যাস্তের ছবি।
তর্ক করতে করতে তারা পাশের ব্যক্তিটিকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ভালো করে দেখে বলুন তো, এটা আসলে কোন সময়ের ছবি—সূর্যোদয়ের নাকি সূর্যাস্তের?’ লোকটি অনেকক্ষণ ছবিটির দিক তাকিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় বলল, ‘এটা মনে হয় সূর্য ওঠার সময়েরই ছবি।’ মন্টু হাসতে হাসতে বলল, ‘ছবির সমঝদার সবাই হতে পারে না বুঝলি।’ ঝন্টুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আরেক দর্শনার্থী। ঝন্টু তাঁকে থামিয়ে বলল, ‘কিছু মনে করবেন না, ছবিটা দেখে বলবেন কি এটা আসলে কোন সময়ের ছবি? সূর্যোদয়ের নাকি সূর্যাস্তের?’
লোকটি অনেকক্ষণ ধরে দেখে মাথা দোলাতে দোলাতে বলল, ‘এটা সূর্যাস্তেরই ছবি হবে।’ ঝন্টুর মুখে হাসি ফুটে উঠল। এবার?
দশ হাজার টাকার বাজিতে হার মানতে রাজি নয় কেউই। একের পর এক দর্শনার্থীদের মতামত নেওয়া শুরু হলো তারপর। কেউ একেবার সামনে ঝুঁকে দেখে, কেউ পেছনে গিয়ে, কেউ পূর্বদিকে সরে গিয়ে দেখে, কেউবা পশ্চিমদিকে সরে দেখে সিদ্ধান্ত জানায়। একজন সূর্যোদয়ের বলে তো পরেরজন বলে সূর্যাস্তের। কেউবা বিরক্ত হয়ে বলে, ‘আমি তো বলতে পারছি না, অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করুন।’ এভাবে কয়েকজনকে বলার পর একজন দর্শনার্থী পরামর্শ দিল, কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই ভালো বলতে পারবে। বুদ্ধিটা ঝন্টু, মন্টু দুজনেরই মনে ধরল।
তারা গটগট করে হেঁটে গেল কর্তৃপক্ষের কাছে। সব খুলে বলে অনুরোধ করল সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে। কর্তৃপক্ষ অনেক ভেবেচিন্তে বলল, ‘দেখুন, আমাদের কাজ চিত্র প্রদর্শনী করা। আমরা সেটা করেছি। যে এঁকেছে, সেই চিত্রশিল্পীই জানে এটা কোন সময়ের ছবি। আপনারা শিল্পীর কাছে যান।’
—কিন্তু সেই চিত্রশিল্পীকে কই পাব?
—এখানেই তো ছিল। মনে হয় রাস্তার ওপারে সিগারেট খেতে গেছে।
‘দশ হাজার টাকার বাজির সমাধান এখনই হয়ে যাবে’ এই উত্তেজনায় দুই বন্ধু এক দৌড়ে রাস্তা পার হতে গেল। হঠাত্ একটা দ্রুতগামী গাড়ি তাদের চাপা দিয়ে চলে গেল।
মোরাল :অর্থের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
আত্মকথন
আমি :দোস্ত, একটা জোকস লিখেছি, শুনবি?
বন্ধু :হাঃ হাঃ হাঃ! হোঃ হোঃ হোঃ! হিঃ হিঃ হিঃ!
আমি :কী হলো? জোকসই তো বলিনি। আগেই এত হাসছিস কেন?
বন্ধু :যা বললি, তারচেয়ে আরো হাসির জোকস হতে পারে?
শেষ পর্যন্ত
দুই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের আলাপচারিতা চলছে।
প্রথম জন :আমরা যতই চিল্লাপাল্লা করি, শেষ পর্যন্ত তো ওই ভারতেই ছুটে যেতে হয়।
দ্বিতীয় জন :কী করে?
প্রথম বন্ধু :একাত্তরে দলে দলে গিয়েছিলাম ট্রেনিং নিতে, আর এখন দলে দলে যাই চিকিত্সা নিতে।
দ্বিতীয় বন্ধু :চিকিত্সা নিতে দলে দলে যাই মানে?
প্রথম বন্ধু :কেন জানো না, ভারতে বিদেশি চিকিত্সা গ্রহীতার শতকরা ৪৫ জনই বাংলাদেশি।
পরিবর্তনটা দেখলে কই?
প্রেমিকা :ছিলে তো একটা মাছি। সারাদিন ভ্যানভ্যান করে আমার পেছন পেছন ঘুরতে। আর এখন? শিলার সাথে রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়াও, মিলার বার্থ ডেতে সারাদিন ওর সাথে থাকো।
প্রেমিক :তো? পরিবর্তনটা দেখলে কই?
প্রেমিকা :এগুলো পরিবর্তন না?
প্রেমিক :নাহ, মাছি ছিলাম, মাছিই তো আছি। ঘোরাঘুরি কী বন্ধ করেছি?
কাগজের দাম
প্রথম বন্ধু :আচ্ছা, এবারের বাজেটে কি কাগজের দাম অনেক বেড়েছে?
দ্বিতীয় বন্ধু :না তো। এ কথা বলছিস কেন?
প্রথম বন্ধু :তাহলে ৪ লাখ টাকার গাড়ির কাগজের দাম ১৪ লাখ টাকা হয় কী করে?
উত্থান
মন খারাপ করে খসরু মিয়া রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাত্ এক জ্যোতিষীকে দেখে কী মনে হওয়ায় এগিয়ে গেল।
খসরু মিয়া :আমার হাতটা দেখে বলেন তো, জীবনে কখনো কি আমার উত্থান হবে না?
জ্যোতিষী (ভালো করে দেখে) :আপনার তো রাহু আর কেতুর বিরাট গিট্টু। সেজন্যই জীবনে কোনো উত্থান নেই।
খসরু মিয়া :তাহলে এখন উপায়?
জ্যোতিষী :উপায় একটা আছে। আমার কাছ থেকে একটা পাথর নিলে আগামী এক মাসের মধ্যেই গিট্টু ছুটে গিয়ে উত্থান হবে।
খসরু মিয়া :আর যদি এক মাসের মধ্যে উত্থান না হয়?
জ্যোতিষী :তাহলে দ্বিগুণ টাকা ফেরত।
বলা বাহুল্য জ্যোতিষীর কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছে। মাস পেরুনোর আগেই গিট্টু ছুটে গেছে। রোড অ্যাক্সিডেন্টের সুবাদে খসরু মিয়া পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে এখন অনেক উঁচুতে।
সম্ভাবনা, সম্ভব না
স্ত্রী :টাকা হারিয়ে ফেলেছি বলে তুমি আমাকে যা তা গালিগালাজ করছ, তাই না?
স্বামী :বাহ, এই দুর্দিনে এতগুলো টাকা হারিয়ে ফেললে কিছু বলব না?
স্ত্রী :না বলবে না। এই যে দেখ, গবেষণায় বলেছে, বেশি টাকা হারালে ফেরত পাবার সম্ভাবনা বেশি!
স্বামী :ওটা লেখার মিস্টেক।
স্ত্রী :তার মানে?
স্বামী :লিখতে চেয়েছিল সম্ভব না, স্পেস না দেওয়ায় হয়ে গেছে সম্ভাবনা।
g কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন