বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ; হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১৯৮৪ সাল থেকে গ্যাস উত্তোলন হয়ে আসছে। ৪০ বছরেও এখানে নির্মিত হয়নি কোনো বর্জ্য পরিশোধনাগার। নিয়ম ছাড়াই গ্যাসক্ষেত্রের পাশের পুকুরে ফেলা হচ্ছে ডিজেল ও পেট্রোল থেকে উৎপাদিত বর্জ্য। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকায় ভোগান্তিতে আছে গ্যাসক্ষেত্রের আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম।

বাখরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. খোকন বলেন, গ্যাসক্ষেত্রের পাশেই আমার বাড়ি। গ্যাসক্ষেত্রের পাশের একটি পুকুরে বর্জ্য ফেলা হয়। এই পুকুরের দুর্গন্ধে আশেপাশের মানুষ অতিষ্ঠ। এমন কি দুর্গন্ধে পশু পাখিরাও পুকুরের আশেপাশে আসে না। বর্ষাকালে দূষিত পুকুরের পানি আশেপাশের অন্য পুকুরের পানির সঙ্গে মিশে যায়। দূষিত পানি কৃষি কাজে ব্যবহার হওয়ায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। পুকুরের মাছও মরে যাচ্ছে।

muradnagar, cumilla -3

ছয়ফুল্লাহকান্দি গ্রামের মো. সোহাগ বলেন, গ্যাসক্ষেত্রের কর্মকর্তারা আমাদের মানুষই মনে করে না।  কয়েক মাস পরপর গ্যাসক্ষেত্রের ওভার গ্যাস শূন্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ সময় বিকট শব্দ হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে এই কার্যক্রম চলে। শিশু ও বয়স্করা আতঙ্কে থাকে। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনে বলা আছে, প্রতিটি কলকারখানার কেমিক্যাল যুক্ত বর্জ্য-পানি পরিশোধন করতে হবে এবং পরিশোধন করা পানি পুনরায় ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য ব্যবহার করতে হবে তরল পানি বর্জ্য শোধনাগার বা এ্যাফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি)। বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে ইটিপি না থাকায় অপরিকল্পিতভাবে পুকুরে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।  

পুকুরে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জিয়াউল কবীর বলেন, আমাদের ফিল্ডের বর্জ্য পরিশোধন হয়ে পুকুরে যায়। যে পুকুরটিতে বর্জ্য ফেলা হয় সেটি আমাদের নিজস্ব পুকুর। ওই পুকুরটির আশেপাশে আরসিসি পেলা সেডিং ওয়াল নির্মাণ করা আছে। যার কারণে পুকুরের বর্জ্য অন্য কোথাও যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া আমরা ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। শীঘ্রই তা টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

muradnagar, cumilla -1

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলার উপ-পরিচালক বলেন, পুকুরে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের মোট গ্যাসের মজুদ ১৩৮৭ বিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের উপজাত হিসেবে দৈনিক প্রায় ৩৬.৮৩ ব্যারেল কনডেনসেট (জ্বালানি তেলের) উপাদান উৎপাদিত হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এ গ্যাস ক্ষেত্রে কনডেনসেট ও গ্যাসের গড় অনুপাত ১.১৫৫ ব্যারেল মিলিয়ন ঘনফুট। আর পানি ও গ্যাসের গড় অনুপাত ৯.৯২৫ ব্যারেল মিলিয়ন ঘনফুট। এখানকার কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল ও ডিজেল তৈরি করা হয়। যা মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড বাজারজাত করে।