রুবেল কান্তি নাথ
‘ষাঁড়কিব, ওরা তোর পরাণের কুটুকুটু বাইলা খাতুনকে তুলে সুন্দরবনে নিয়ে গেছে।’ ‘এসব কী বলছ মা তুমি? সুন্দরবনের বান্দর নিয়ে আমি ডক্টরেট করেছি। পৃথিবীতে আমার মতো বড় বান্দর আর একটাও নাই। সেই আমার কাছ থেকে ওকে ছিনিয়ে নেওয়ার দুঃসাহস করে কোন বান্দর!’
‘আহা আমার ডিগ্রিওয়ালা মোটাতাজা রয়েল বেঙ্গল ষাঁড়, আজ যদি তোর বাবা বেঁচে থাকতেন। তোর পিঠের চামড়া তুলে সুন্দরবনের বাঘের মুখে ছুঁড়ে দিতেন। যদিও এই ভেজাল খানা খেয়ে তাঁর পাতলা পায়খানা শুরু হয়ে যেত। থুক্কু, কী কইতে কী বলি! ওই শয়তানদের পিটিয়ে ধানগাছের তক্তা বানিয়ে ফেলতেন। ওই তক্তা দিয়ে খাট বানিয়ে তাতে শুয়ে শুয়ে তোর বউয়ের সাথে জি বাংলার সিরিয়াল নিয়ে ঝগড়া করতাম।’
‘মা, চৌধুরী সাহেব বলেছেন, আমি নাকি ছোটলোকের চৌবাচ্চা থুড়ি, বাচ্চা। বামন হয়ে ওর স্টেডিয়াম মার্কা মাথার ছাদের দিকে নজর দিয়েছি। না মানে, ওর হাফজেন্টস টাইপ মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছি। আমিও চেঁচিয়ে বলে এসেছি মা, ‘চৌধুরী সাহেব, আমরা গরিব হতে পারি কিন্তু ভুয়াপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে বালিশ তোলার চাকরিটার জন্য এরমধ্যে আবেদন করে ফেলেছি।’’
দুই.
‘আজ যদি আপনি বেঠিক সময়ে এসে আমার হাত থেকে গুন্ডাদের না বাঁচাতেন, তবে ওদের কী যে হতো বলা মুশকিল! আসুন না, আমাদের বাসায়। ওয়াসার পানির এক কাপ গরম শরবত খেয়ে যান।’
‘তোমার সাথে ধাক্কা না খেয়েও, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি বাইলা। বিশ্বাস কর বাইলা, বিশ্বাস কর। এই জীবনে তোমাকে না পেলে আমি মা’হুজুর আরমানের গান শুনেই জীবন বিসর্জন দিয়ে দেব। নতুবা কাটাপ্পা থুড়ি, ব্যাঁকাপার রান্না খেয়ে নুডলস দিয়ে পটল রাঁধব, ডাবল থুড়ি; মানে পটল তুলব আর কি!’
‘আমিও তোমার মতো হাফলেডিসকে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারছি না। আ-আ-আ আমি তো তোমার মাকে আই লাভ ইউ।’
‘তাহলে মা’হুজুর ভাইয়ের সুরে একটা ঝাকানাকা গান হয়ে যাক, ‘এক বিন্দু ভালুবাশা দাও, ইআমি একটা ডক্টরেট ডিগ্রি দেব...’ আর পারি না। শেষে বেশি গাইলে আবার অকালেই হার্টফেল করে পটল রাঁধব।’
‘শোনো, বাবা তার বন্ধুর ছেলে হারকিউলিসের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। একি বাডি, গুন্ডাদের পিটাইলাম আমি আর তোমার হাতে ব্লাড! দাঁড়াও তোমার গায়ের শার্টটা ছিঁড়ে আপাতত বেঁধে দিচ্ছি। বাড়িতে গিয়ে তোমার মায়ের শাড়ি ছিঁড়ে প্যাঁচিয়ে নিও।’
‘আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে তুমি আমার শার্ট ছিঁড়তে পারবা না, বাইলা। না মানে, এক বিন্দু ব্লাড থাকতে তোমাকে কোনো ব্লাডির ঘরে যেতে দেব না। না-আ। না-আ-আ। না-আ-আ-আ। আমি প্রথমত তোমাকে চাই। দ্বিতীয়ত তোমার বাপের টাকা চাই। তৃতীয়ত গাড়ি চাই, বাড়ি চাই, নারী চাই... চাই, চাই... চাই... সবই চাইইই...’
তিন.
‘ছেড়ে দে শয়তান, ছেড়ে দে। পরিচালকের নির্দেশে তোদের পিটাতে পারছি না। নইলে পিটিয়ে না হলেও পটিয়ে আধমরা করে ফেলতাম। ওই ষাঁড়কিব আবুইল্যা, আমাকে বাঁচা শালা!’
‘মুহাহাহাহাহাহাহাহা! আইজ তোর জানেমান, ঠোঁটে মাইয়াগো লাহান লিপস্টিক দেনেওয়ালা পাঁঠাটারে মাইরা লুলা বানাইয়া দিমু। হেরপর গুলিস্তানের মোড়ে থালা হাতে যদি তারে না বসাইছি, আমার নাম গভীর জল থুক্কু, ডিপকল না। মুহাহাহাহাহাহাহাহা!’
‘ইয়ালি! আমি এসে গেছি, ডিপকল। মনে আছে আজ থেকে বিশ বছর আগে তুই আ-আ-আমার বাবাকে চিমটি কেটেছিলি? আ-আ-আমার একমাত্র ছোট ভাইটাকে ভেংচি কেটেছিলি? আমার-আমার চা-চাচাতো, ফুপাতো, মামাতো, নানাতো...বো-বোনকে চোখ মেরেছিলি? আজ আমি তোকে মারতে পারব না। ধুর, পরিচালক বলছে, মারতে। তোদের একটা গুলিও আমার গায়ে লাগবে না। ইয়া ঢিশুম-ঢিশুম-ঢিশুমাইক-ঢিশুয়া...’
‘ওই প্লাস্টিক! মর জ্বালা, ওই লিপস্টিক, প্রিয়তম আমার। মার শালা রে। ধুর, মারো বেটাকে।’
‘মার খোকা, মার। একেবারে মারিপ্লা। তোর মায়ের কসম মারিপ্লাআআআ...।’
‘হ্যান্ডস আপ। আইন আমাদের হাতে তুলে দেবেন না।’