ভারতের মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপের ২৩তম ম্যাচে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলেরই এটি আসরের পঞ্চম ম্যাচ। তবে পয়েন্ট তালিকার হিসাবে দুই দল অবস্থান করছে টেবিলের দুই মেরুতে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলে প্রথমটিতেই জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে তিন ম্যাচেই জিতেছে তাণ্ডব চালিয়ে এবং একটি ম্যাচে হেরেছে। তাই দুই দলের জন্য আজ লড়াইটা ভিন্ন রকম। জয় দিয়ে আজ সেমির পথ সহজ করতে চাইবে প্রোটিয়ারা; অন্যদিকে লড়াই চালিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে লাল-সবুজরা।
বিশ্বকাপের আজকের এই ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে প্রোটিয়ারা। শক্তি-সামর্থ্য কিংবা ওয়ানডে ফরম্যাটে মুখোমুখি হওয়ার আগে হিসাব অনেকটা পরিষ্কারই। এক দিনের এই ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত এ দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২৪ বার, যার মধ্যে টাইগাররা জিতেছে মাত্র ছয় বার, বাকি ১৮ জয়ই প্রোটিয়াদের ঝুলিতে। তবে এর মধ্যে টাইগারদের জন্য আশা জোগাবে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান। আইসিসির এই টুর্নামেন্টে দুই দলই রয়েছে সমানে সমান অবস্থানে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে চার বার প্রোটিয়ারা মুখোমুখি হয়েছে টাইগারদের, যার মধ্যে দুই দলই দুটি করে জয় ও দুই ম্যাচে হেরেছে।
এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সবশেষ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ওভালে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐ ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ২১ রানে জয় পেয়েছিল টাইররা। তবে সেই পরিসংখ্যান টানা বর্তমান আসরে ঠিক হবে না। কারণ চলমান আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা কোনো দলকেই ছেড়ে কথা বলছে না। প্রথমে ব্যাট করতে নামলে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর শাসন চালিয়ে রীতিমতো স্কোর বোর্ডে রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে তারা। পরে বোলারদের কীর্তি তো রয়েছেই। অন্যদিকে যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে নজর দিতে হয়, তাহলে দেখা যায় আসরের প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে জয় পেয়েছিল। এরপর একে একে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং সবশেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের সামনে লড়াই-ই করতে পারেনি।
মঙ্গলবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ফের এই ম্যাচটিতে দেখা যেতে পারে রানের বন্যা। কারণ এই মাঠের পিচটি ব্যাটার-সহায়ক। আর বোলারদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু অতটা ভালো মানের বোলিং না চালালেও এখানেও তারা সফল হতে পারবে, যেমনটা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া শেষ ম্যাচে দেখা গিয়েছিল।
মুম্বাইয়ের এই মাঠে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৯৯ রান করেছিল প্রোটিয়ান ব্যাটাররা। ধারণা করা হচ্ছিল, পরের ইনিংসে ইংল্যান্ডও বড় স্কোর উপহার দেবে। তবে দেখা যায় উলটো চিত্র। প্রোটিয়া বোলার কোয়েটজি, এনগিডি ও জ্যানসেনদের অগ্নি বোলিংয়ে মাত্র ২২ ওভারে ১৭০ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংলিশরা। তাই বলা যায়, সুবিধা পাবে ব্যাটিং-বোলিং দুই সাইডই। মূলত আজকের বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলবে যেই দল, দিন শেষে ফল তাদের পক্ষেই যাবে।