কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী আটক

খুলনায় কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সুজলা রাণী বিশ্বাস (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর ফারাজীপাড়া মেইন রোডের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ সময় ঐ বাসার দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত সুজলা রানী বিশ্বাসের স্বামী শ্যামল কুমার বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। নিহত গৃহবধূর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা দুর্গাপূঁজা দেখতে বাসার বাইরে ছিল।
 
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তারা নগরীর ফারাজীপাড়া মেইন রোডের মৃত আব্দুল জব্বারের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় আগুন দেখতে পায়। এ সময় ঐ বাসার জানালা-দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঐ বাসার ভাড়াটিয়া শ্যামল কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী সুজলা রাণী বিশ্বাসকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। 

স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে ঐ গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে।

নগরীর টুটপাড়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভিয়ে ফেলে। কেরোসিনের আগুনে দগ্ধ হয়ে ঐ গৃহবধূ দগ্ধ হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 

খুলনা সদর থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে ঐ গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূ সুজলা রাণী বিশ্বাসের স্বামী শ্যামল কুমার বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের পর বলা যাবে ঐ গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন, না মৃত্যুর জন্য অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

তবে ঐ সময় ঐ গৃহবধূর স্বামী ও দুই ছেলে-মেয়ে বাসায় ছিলেন না। লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের হোটেল অ্যাম্বাসেডর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনে আটকে পড়া ২০-২৫ জনকে উদ্ধার করে। 

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।