ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনা: মালবাহী গাড়ির চালককে দুষছেন স্টেশন মাস্টার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য মালবাহী ট্রেনের চালককেই দায়ী করলেন ভৈরবের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ। তিনি জানান, ভৈরবে সিগন্যাল ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়। আমি চাইলেও বিপরীতমুখী দুটি ট্রেনকে একসঙ্গে চলাচল করার সিগন্যাল দিতে পারবো না। আর এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও জানেন বলেই মালবাহী ট্রেনের গার্ড আলমগীর, চালক ও সহকারী চালককে সাময়িক বরখাস্ত করা করেছেন। তারপরও তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করবে। যাকে দায়ী পাবে, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনবে।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল সোয়া তিনটার দিকে ভৈরব থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্দুর ট্রেনটি ছেড়ে যায়। কিন্তু ট্রেনটি আউটার সিগন্যালের পয়েন্টে গিয়ে লাইন পরিবর্তনের আগেই বিপরীত দিক থেকে মালবাহী ট্রেনটি ঢুকে পড়ে। এতে এগারসিন্দুরের পেছনের দুটি বগিতে সজোরে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
 
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম। আহত হয়েছেন ৭৫ জন। তবে আহতদের অধিকাংশই আশঙ্কামুক্ত। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌতুহলী শত শত নারী-পুরুষের ভিড় দেখা গেছে। ওই এলাকার নূরুল ইসলাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি দুর্ঘটনার সময় পাশের জলাশয়ে গরুকে গোসল করাচ্ছিলেন। এমন সময় এগারসিন্দুর ট্রেনটি চলে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে মালবাহী ট্রেনটি গিয়ে পেছনের দুটি বগিতে ধাক্কা দেয়। এতে বগি দুটি ভেঙে আলগা হয়ে যায়। যাত্রীদের আহাজারি শুনে তিনি গিয়ে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেছেন। চোখের সামনে রক্তাক্ত দেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেছেন। অধিকাংশই বগির নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। এখনও ঘটনাস্থলে গেলেই নাকে এসে লাগছে রক্তের উৎকট।  মানুষের দেহের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই এখানে প্রচুর রোগী আসতে থাকে। সবাইকে ওয়ার্ডে স্থান দেওয়া সম্ভব ছিল না। চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হয়েছে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে সকল উপজেলার চিকিৎসক ও নার্সরা ওষুধসহ এখানে এসে চিকিৎসা কাজে সহায়তা করছেন।