কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় হামুন। কক্সবাজার উপকূলে হামুনের ব্যাপ্তি ছিল দুই ঘণ্টা। এই দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে একপ্রকার অচল হয়ে আছে কক্সবাজারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা হতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারজুড়ে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টানা ২৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অসংখ্য স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। অনেক বাড়িতে দেখা দিয়েছে পানি শূন্যতা। ফলে এলাকাজুড়ে চলছে খাবার পানির তীব্র সংকট।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে মোবাইল কোম্পানির নেটওয়ার্কও নেই। বাতাসের তীব্রতায় কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্ব পাহাড়তলীতে বাড়ির দেয়াল চাপায় আবদুল খালেক (৫২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে আরো দুজন নিহত হবার কথা শোনা গেলেও তাদের নাম পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণও জানা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টা হতে ঘুর্ণিঝড় হামুন কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানা শুরু করে। এরপর একটানা রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূল ও এর আশপাশের অঞ্চল দিয়ে ব্যাপক ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। একই সাথে চলে বজ্রসহ বৃষ্টিও। ঝড়ো হাওয়া আর বাতাসের তীব্র আঘাতে কক্সবাজার শহর ও উপকূল এলাকায় গাছপালা উপড়ে এবং কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। মাঝরাতেও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। তবে, বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বৃষ্টি থেমে গিয়ে সূর্য ওঠায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, ঘুর্ণিঝড় হামুনে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে জেলায় কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে, সার্কিট হাউজ সড়কে, শৈবাল সড়ক, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ সরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের বড় বড় গাছ উপড়ে গেছে। যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।