শিক্ষার্থী নেই, তবু বেতন তুলছেন কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেড়ভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকার পরেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম রহুল আমিনকে ম্যানেজ করে শিক্ষকরা এ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ আছে।   

তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ওই মাদ্রাসায় গিয়ে শুধু ৮ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পেয়ে মাদ্রাসার সুপার নুহ ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেননি। 

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই মাদ্রাসায় কয়েকজন শিক্ষকরা সুপারের কক্ষে বসে খোশগল্পে মেতে উঠেছেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। 

madrasa-2

মাদ্রসার সুপার নুহ ইসলামের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই মাদ্রসায় ১৫ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী রয়েছে। মাদ্রাসাটিতে কাগজে কলমে ২৬২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি থাকলেও বাস্তবে একজন শিক্ষার্থীও চোখে পড়েনি।
 
এলাকার বাসিন্দা জাহেনুর রহমান বলেন, আমিও একজন শিক্ষক। আমি যতটুকু জানি যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলে শিক্ষকরা কোনোভাবেই সরকারি অংশের বেতনভাতা উত্তোলন করতে পারবেন না। কিন্তু এই মাদ্রাসায় দিনের পর দিন কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলেও শিক্ষকরা ঠিকই বেতন পাচ্ছেন। 

পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন বলেন, মাদ্রাসাটি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদ্রাসাটি এমপিও হয় ১৯৯৪ সালে। এমপিও হওয়ার আগে কিংবা পরে কোনো দিনও ওই মাদ্রাসায় একসঙ্গে ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তারপরও কীভাবে শিক্ষকরা বসে থেকে দিনের পর দিন বেতনভাতা উত্তোলন করছে আমি বুঝতে পারি না। 

তিনি আরও বলেন, সরকারের যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বেতন ভাতায় স্বাক্ষর করেন।

মাদ্রাসার সুপার নুহ ইসলাম শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, কয়েকদিন আগে মাদ্রাসায় তিনটি পদে নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে একটু ঝামেলার কারণে মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী আসেনি।

madrasa-11

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাজিবুল আহসানের বক্তব্যর জন্য মোবাইলে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন বলেন, ওই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসায় দিনের পর দিন শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকা, মাদ্রাসায় বসে শিক্ষকদের জুয়া খেলাসহ ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরই আলম সিদ্দিকী বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন ভার্সনে ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে জুয়া খেলার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ এখানো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।