যশোরে নাশকতার অভিযোগ এনে বিএনপির ৮৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার (২৯ অক্টোবর) মামলা হয়েছে। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে স্থানীয় দুই টাইলস মিস্ত্রিকে। কিন্তু মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না তারা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার বিএনপির ডাকা হরতালের দিন শহরের হামিদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে অবস্থান নেয় পুলিশের একটি দল। এসময় লিটন ট্রাভেলস ও শিবচর স্টার ডিলাক্স নামে দুটি পরিবহনে তল্লাশি চালিয়ে ৩৫টি হাতবোমা, ৩৯টি বাঁশের লাঠি, ১০ লিটার পেট্রোল এবং ৯টি গ্যাসলাইট উদ্ধার করা হয়। এসময় দুটি গাড়িতে থাকা ৬৬ জনকে আটক করা হয়। তারা বিএনপির নেতাকর্মী বলে জানা যায়। এ ঘটনায় যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় চাঁনপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে বিল্লাল হোসেন ও শেখ হাফিজুর রহমান নামের দুই ব্যক্তিকে। বিল্লাল হোসেনের বাড়ি সদরের বালিয়াডাঙ্গা এলাকায়। অন্যদিকে শেখ হাফিজুর রহমানের বাড়ি সিতারামপুর এলাকায়। তারা দুজনেই টাইলস মিস্ত্রি।
মামলার সাক্ষী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না। পুলিশ এসে আমাদের দুজনকে একটা কাগজে সই (স্বাক্ষর) করতে বলল। আমরা ভয়ে ভয়ে সই করলাম। কী উদ্ধার করেছে বা কাকে আটক করেছে কিছুই বলতে পারব না।’
আরেক সাক্ষী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’
শিবচর স্টার ডিলাক্স পরিবহনের ম্যানেজার সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়েকজন যাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তারা কে কোন দল করে তা জানি না। তবে আমাদের গাড়ি থেকে পুলিশ লাঠি, ককটেল বা পেট্রোল কিছুই উদ্ধার করেনি।’
যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘সরকার বিএনপির আন্দোলনকে ভয় পায়। তাই গায়েবি মামলা দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিঃস্ব করে ফেলেছে। আমিও এই মামলার আসামি। কিন্তু ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না।’
এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলাটি হয়েছে। সাক্ষী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এখন আসামিদের হুমকির ভয়ে ভিন্ন কথা বলছেন।