সেমি নিশ্চিতের লড়াই স্বাগতিকদের, লঙ্কানদের টিকে থাকার

ঘরের মাঠে ২০২৩ বিশ্বকাপ স্বপ্নের মতো কাটাচ্ছে স্বাগতিক ভারত। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলে শতভাগ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে সেমিতে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। অপরদিকে দিকে ছয় ম্যাচ খেলে চার হার এবং দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৭ নম্বরে অবস্থান করছে শ্রীলঙ্কা।

বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০মিনিটে স্বাগতিক ভারতের মুখোখুখি হবে লঙ্কানরা। অন্যদিকে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেলেই ভারত নিশ্চিত করে ফেলবে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার টিকিট।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের একটি মধুর স্মৃতি রয়েছে। ২০১১ সালে সব শেষ যে বার ভারত (বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজন) নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল সেবারের ফাইনালে মুম্বাইয়ের এই মাঠে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই মাঠে নেমেছিল তারা। সেই ম্যাচে লঙ্কানদের ২৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারের ১০ বল বাকি থাকতেই মাহেন্দ্র সিং ধোনীর ৯১ রানের হার না মানা ইনিংসে ভর করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ভারত।

এরপর কেটে গেছে এক যুগ আর কোনো বিশ্বকাপ শিরোপার দেখা পায়নি ভারত। আজকের ম্যাচটি সেই ম্যাচের মতো ফাইনাল না হলেও সেই দৌড়ে সবার আগে যাওয়ার লড়াই ভারতের। আর প্রতিপক্ষ তো বেশ পরিচিতই।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দুইটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই মাঠের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং গত আসরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সেই মাঠে ইংলিশদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের তুলোধুনা করে ৩৯৯ রানের বিশাল সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা। যা এই মাঠে চলতি বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। যা চলতি বিশ্বকাপে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান। এই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৮২ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৩৩ রান সংগ্রহ করতে পারে বাংলাদেশ।

এই বিশ্বকাপে এই মাঠে আগে ব্যাট করা দলের জয় শতভাগ। উইকেটটি ব্যাটার-সহায়ক হওয়ায় টস জিতে আগে ব্যাট করে প্রতিপক্ষকে রানের পাহাড়ের নিচে ফেলে জয় তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই মাঠে জয়ের জন্য টস অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া এর আগে একদিনের ক্রিকেটে মোট ১৬৭ বার মুখোমুখি হয় ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এসব ম্যাচ জয়ের পাল্লা ভারী স্বাগতিকদের পক্ষে। ভারতের জয় ৯৮ ম্যাচে। অপরদিকে শ্রীলঙ্কার জয় ৫৭টি ম্যাচে। তবে ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াই সমানে সমান। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ আসরে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ৯ বার, যার মধ্যে দুই দলের জয় চারটি করে। বাকি একটি ম্যাচে কোনো ফল হয়নি।

এদিকে ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বশেষ গেল এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। ঘরের মাঠে ভারতের কাছে লজ্জার রেকর্ড ব্যবধানে হেরে ট্রফি হারায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। গেল এশিয়া কাপের ফাইনালে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত  নেয় শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে লঙ্কান ব্যাটাররা। সব উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে মাত্র ৫০ তুলতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচে লঙ্কানদের একাই গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। ২১ রান দিয়ে লঙ্কানদের ৬ ব্যাটারকে দেখান সাজঘরের পথ। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ ওভারে জয় তুলে নেয় ভারত। সেই সঙ্গে চার বছর পর আন্তর্জাতিক কোনো শিরোপা ঘরে তোলে ভারত।