ইলিশের আশায় জেলেদের জোর প্রস্তুতি, নিষেধাজ্ঞা উঠছে মধ্যরাতে

মা-ইলিশকে নিরাপদে মিঠাপানিতে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে ১২ অক্টোবর থেকে পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় চলছে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা। এটি অব্যাহত থাকবে বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। তার পরই জেলেরা নেমে পড়বেন নদীতে। হাতে সময় কম। তাই চাঁদপুরে মেঘনা পাড়ের জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে। জেলেরা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তারা প্রচুর ইলিশ পাবেন। কারণ অভিযানের আগেও তারা ইলিশসহ অন্যান্য মাছ পেয়েছেন।

বুধবার শহরের যমুনা রোড টিলবাড়ী, মোলহেড, সদর উপজেলায় পুরান বাজার রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর ও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের মেঘনা পাড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে জেলেদের মাছ ধরার প্রস্তুতি। জেলেরা তাদের জালগুলো প্রস্তুত করছেন।

ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের সাখুয়া গ্রামের জেলে আবদুল মালেক জানান, যখন নদীতে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন তিনি জেলেদের জাল মেরামত করার কাজ করেন। ২ নভেম্বর থেকে আবার নদীতে নামবেন জেলেরা। তাই সবাই এখন জাল মেরামত করার কাজে ব্যস্ত। বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি এখন আর নদীতে নামেন না। দৈনিক হাজিরায় জাল মেরামতের কাজ করেন। পার্শ্ববর্তী রামদাসদী গ্রামের জেলে মো. আকবর খান বলেন, ‘সরকার মা-ইলিশ রক্ষায় যে অভিযান দিয়েছে, তা আমরা মানছি। আমরা নদীতে নামি নাই। এখন আল্লাহ যদি কিসমতে রাখে, তাহলে ইলিশ পাব। আর না পেলে ঋণের মধ্যে থাকতে হবে।’ আরেক জেলে মো. শাহজাহান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছুদিন বসে ছিলাম। সরকার যে ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছে, তা পেয়েছি। তবে এই দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। এখন আবার ইলিশ ধরার জন্য জালগুলো প্রস্তুত করছি। আশা করছি, নদীতে ইলিশ থাকলে পাব। কারণ অভিযানের আগেও বেশ কিছুদিন আমাদের এলাকার জেলেরা ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ পেয়েছেন।’

এদিকে মা-ইলিশ সংরক্ষণের শেষ পর্যায়েও এক শ্রেণির জেলেরা থেমে নেই। তারা প্রতিদিনই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ ধরছেন। নৌপুলিশ, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক হচ্ছেন জেলেরা। জেলা-জরিমানা করা হলেও মানছেন না জেলেরা। বেপরোয়া জেলেরা ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করছেন। সবশেষ ২৬ অক্টোবর সদরের বহরিয়া এলাকায় হামলার শিকার হন চাঁদপুর সদর মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্য। এই ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়। থানায় মামলা হয়েছে।

নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইলিশ মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়লে জেলেরাই আহরণ করবেন। তাদেরকে প্রতি অভিযানের আগেই সচেতন করা হয়, কিন্তু নিষেধাজ্ঞা না মেনে অহরহ ইলিশ ধরতে নদীতে নেমে পড়েন জেলেরা।’

চাঁদপুর জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘মা-ইলিশ রক্ষায় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৪১৫টি অভিযান পরিচালনা করেছেন। মত্স্য আইনে নিয়মিত মামলা ও ৬২টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২৮৪ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা দিন ও রাতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মা-ইলিশ রক্ষা হলে জেলেদেরই লাভ হবে। তারাই পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ আহরণ করবেন।’