আক্ষেপের দিনেও কোহলির দুই কীর্তি

স্বাগতিকদের জন্য বেশ সুখকর স্মৃতি বহন করে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। এখানেই ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ঘরে তুলে ছিল ভারত। এক যুগ পর আবার বিশ্বকাপে এই মাঠে মুখোমুখি ভারত-শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে বেশ ভরা দর্শকও ছিল।

মাঠে উপস্থিত ছিল সেই ফাইনালের দুই দলের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও মুত্তিয়া মুরালিধরন। আর বিশেষ এই মাঠে এদিন বিরাট কোহলির সামনে সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি করে ওয়ানডেতে শচীনের সামনেই শচীনের কীর্তি ছুঁয়ে ফেলার। তবে তা পারেননি তিনি। কিন্তু অন্যদিক দিয়ে আবার শচীনকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন কোহলি।

রবিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামে ইনিংসে ৩৪ রান করার মধ্য দিয়ে এই বছরে হাজার রান সংগ্রহ হয়ে যায়। আর তার মাধ্যমেই শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলেছে কোহলি। এক পঞ্জিকাবর্ষে হাজার রানের মাইলফলক এই নিয়ে ভিন্ন আট বছরে স্পর্শ করলেন তিনি। শচীন করেছিন ভিন্ন সাত বছরে।

টেন্ডুলকার প্রথম বার হাজার রান করেন ১৯৯৪ সালে। সেবার ২৫ ইনিংসে করেন ১ হাজার ৮৯ রান। এরপর ১৯৯৬ সালে ৩২ ইনিংসে ১ হাজার ৬১১, ১৯৯৭ সালে ৩৬ ইনিংসে ১ হাজার ১১, ১৯৯৮ সালে ৩৩ ইনিংসে ১ হাজার ৮৯৪, ২০০০ সালে ৩৪ ইনিংসে ১ হাজার ৩২৮, ২০০৩ সালে ২১ ইনিংসে ১ হাজার ১৪১, ২০০৭ সালে ৩২ ইনিংসে ১ হাজার ৪২৫ রান করেন তিনি। অন্যদিকে কোহলির হাজার রানের যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। সেবার ৩৪ ইনিংসে তিনি করেন ১ হাজার ৩৮১ রান। এরপর ২০১২ সালে ১৭ ইনিংসে ১ হাজার ২৬, ২০১৩ সালে ৩০ ইনিংসে ১ হাজার ২৬৮, ২০১৪ সালে ২০ ইনিংসে ১ হাজার ৫৪, ২০১৭ সালে ২৬ ইনিংসে ১ হাজার ৪৬০, ২০১৮ সালে ১৪ ইনিংসে ১ হাজার ২০২, ২০১৯ সালে ২৫ ইনিংসে ১ হাজার ৩৭৭ রান করেন তিনি। আর এবার হাজার রান ছুঁয়েছেন ২০ ইনিংস খেলেই।

এদিকে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৫০ রানের ইনিংস খেলার মধ্য দিয়ে আরো এক কীর্তি নিজের নামে করে নিয়েছেন কোহলি। গতকাল দলীয় ৪ রানে ওপেনার রোহিত শর্মা আউট হলে উইকেটে নামেন কোহলি। শুভমান গিলের সঙ্গে গড়েন ১৮৯ রানের জুটি। এর মধ্যে ৪৯ বলে ফিফটি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৭০তম ফিফটি তুলে নেন কোহলি। এতে করে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নন এমন ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপে সবেচেয়ে বেশি হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। তার আগে শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা সর্বোচ্চ ১২টি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন বিশ্বকাপে। তাকে পেছনে ফেলে ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি করে রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন কোহলি।

তবে শেষ অবদি আক্ষেপ নিয়েই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় বিরাট কোহলিকে। ওয়ানডেতে ৪৮ সেঞ্চুরি করে তিনি অপেক্ষা করছেন ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারকে ছোঁয়ার। তবে দুইটি সুযোগ পেয়েও ওয়াংখেড়েতে ঈশ্বরকে ছোঁয়া হলো না কোহলির। বৃহস্পতিবার ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি তবে শেষ অবদি ৮৮ রানে ফিল্ডারের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।