সাভারে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্থানীয় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম হাসিবুল ইসলাম অন্তর। তিনি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র হাসিবুল হাসান অন্তরের মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্ররা একত্র হয়ে মিছিল করে। পরে স্থানীয়দের হত্যার জন্য দায়ী করে তারা ¯েøাগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা বিরুলিয়া সাভার সড়কের আকরান বাজারে থাকা একাধিক দোকানের আসবাপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে বাজারে থাকা দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েকদিন আগে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অন্তরকে আক্রাইন বাজারের কিছু লোক তুলে নিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। পরে তারা অচেতন অবস্থায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা অন্তরকে প্রথমে ড্যাফোডিল কেয়ারে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারে তাকে ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (শিক্ষার্থী বিভাগ) সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন, ‘কয়েকদিন আগে অন্তরের সঙ্গে স্থানীয়দের কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। পরে তাকে মরধর করে আহত করা হয়। বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।’
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন ক্যাম্পাসের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।’