আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকার নিজের সর্বশেষ সেঞ্চুরিটি করেছেন ২০১২ সালের ১৬ মার্চ, বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে। ওয়ানডেতে যেটি ছিল তার ৪৯তম সেঞ্চুরি। ১১৪ রানের ঐ ইনিংসের মাধ্যমেই ভারত কিংবদন্তি গড়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করার রেকর্ড।
যে রেকর্ড ক্রিকেট ইতিহাসের আর কারো নেই। তা হয়তো নেই। তবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এখন টেন্ডুলকারের একার নেই। গত পরশু তার ৪৯ ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তারই উত্তরসূরি বিরাট কোহলি।
পরশু কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস খেলে টেন্ডুলকারের রেকর্ড ছোঁয়ার পাশাপাশি নিজের জন্মদিনটাও রাঙিয়েছেন কোহলি। মাতিয়েছেন কলকাতার দর্শকদের। তার দল ভারতও ম্যাচ জিতেছে ২৪৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। এমন স্মরণীয় দিনে ‘দ্বিতীয় বার’ মাঠে নেমে কোহলি একটা ‘মানবিক কাব্য’ও লিখেছেন।
হ্যাঁ, পরশু দ্বিতীয় বার মাঠে ঢুকে প্রবেশ করেছিলেন কোহলি। ম্যাচ শেষে দলের আর সবার সঙ্গেই মাঠ ছাড়েন তিনি। তবে খানিক পর আবার একাকী মাঠে প্রবেশ করেন কোহলি। তার এই দ্বিতীয় বার মাঠে নামার কারণটাও স্পষ্ট হয় দ্রুতই। দর্শকদের তো সেঞ্চুরির মাধ্যমে জন্মদিনের উপহার দিয়েছেনই। এবার মাঠে নেমে কোহলি বিশেষ ধন্যবাদ জানান ইডেনের মাঠকর্মীদের। ধন্যবাদ-শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মাঠকর্মীদের সঙ্গে সেলফি তুলে, গল্প করে বেশ খানিকটা সময় কাটান তিনি।
কোহলিকে কাছে পেয়ে মাঠকর্মীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসটাও ছিল বাঁধভাঙা। কোহলির এই মানবিক দৃষ্টান্ত গড়ার দিনে ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা আবার ঘটিয়েছেন অন্য কাণ্ড! পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি নিজের মুখ লুকিয়ে ফেলেন লজ্জায়। যেন গোমটা খুলে নববধূর মুখ উন্মোচন করে ফেলেছেন কেউ!
আসলে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রতিটা ম্যাচ শেষেই ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে দলের সেরা ফিল্ডারকে পুরস্কার দিয়ে আসছে। পরশু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারত দলের সেই সেরা ফিল্ডারের পুরস্কারটা পেয়েছেন অধিনায়ক রোহিত। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ভারতের ফিল্ডিং কোচ টি দিলিপ ‘ম্যাচের সেরা ফিল্ডার’ হিসেবে তার নাম ঘোষণা করতেই রোহিত লজ্জায় নিজের মুখটা লুকিয়ে ফেলেন! পুরো ড্রেসিংরুমে হাসির রোল পড়ে যায়।