লিয়াকত বাহিনীর ভয়ে ঘরছাড়া ৫ পরিবার

কারাগার থেকে বের হয়ে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন কক্সবাজার সদরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী। চাঁদা না দেওয়ায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, দোকানপাট দখল, বাগানের গাছ কেটে ফেলেছেন তিনি। স্থানীয় আবদুল খালেক, খায়রুল আমিন ও সাদ্দাম হোসেন নামের তিন ব্যক্তিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রাণের ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (৮ নভেম্বর) বিকালে কক্সবাজার শহরের একটি রেস্তরায় সংবাদ সম্মলেনে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের লোকজন।

লিখিত বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‌আমরা ঝিলংজা মুহুরীপাড়া এলাকার শান্তিপ্রিয় বাসিন্দা। এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ও শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর অত্যাচার ও নির্যাতনে আমরা ৫ পরিবার জিম্মি হয়ে পড়েছি। শ্রমিকলীগের জেলা সভাপতি জহিরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন। শ্রমিকলীগ নেতা জহিরকে হত্যার পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান তিনি। সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হয়ে লিয়াকত আলী আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ভুক্তভোগী আবদুল খালেক অভিযোগে বলেন, গত বছর আবছার নামের এক সন্ত্রাসীকে হত্যা করে লিয়াকত বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে আমিসহ কয়েকজন নিরহ মানুষকে আসামি করা হয়। আমি কারাগারে গেলে আমার সব ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস ও জায়গা-জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। 

খালেকের দাবি, কিতাব আলী, জায়েদ আলী, মহিবুল্লাহ কাজল, রেজাউল করিম, শাহাদাত করিম, ইসমাইল, রাসেল, মইনুদ্দিন, দিদার, আনিস বেলাল, জহিরুল, শফি, আবুল কালামসহ ২০-৩০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব দেন লিয়াকত আলী। তারা প্রতিনিয়ত মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করে আসছে। এতে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী বলেন, প্রতিহিংসাবশত তারা আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করছে। আমার ভয়ে কারোর এলাকা ছাড়ার কথা সত্যি নয়।