ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ভোট দিতে হবে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের সব সেক্টরে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে চরভদ্রাসন সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খানের বাড়িতে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যদের উদ্দেশে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমার বয়স যখন ৫ বছর, তখন থেকে আমার বাবার হাত ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গেছি। আমি রাজনৈতিক শিক্ষা বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার বাবাকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান-স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়েছেন।’
নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘২০১৩ সালে যখন আপনাদের কাছে এসেছিলাম, আপনাদের প্রধান দুটি সমস্যা ছিল- নদী ভাঙন ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গোপালপুর টু চরমৈনুট ফেরি চালু (না হওয়া)। আপনারাই বলেছেন, এর আগে অনেক নেতা এসেছে। কিন্তু কেউ আপনাদের এলাকার উন্নয়নে কাজ করেনি। আপনারা আমাকে দুই-দুইবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত করছেন। আমি এই এলাকার উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার যৌবনের সাড়ে ৯ বছর আপনাদের এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর কয়েকটি পয়েন্টে সেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হয়েছে। পাশাপাশি নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গিয়ে দুর্গম চরাঞ্চল আলোকিত হয়েছে।’
নিক্সন বলেন, ‘খুব শীঘ্রই রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ হবে। পদ্মা সেতু হওয়ার পর অনেক ফেরি বসে আছে। রাস্তা প্রশস্ত ও গাড়ি ওঠানামার সুব্যবস্থা করে দ্রুতই আপনাদের ফেরি চালু করা হবে।’
এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর সমালোচনা করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আপনি সাড়ে চার বছর বন্যা, ঝড় ও করোনা মহামারিতে কখনও জনগণের খোঁজ নেননি। নির্বাচনের ছয় মাস আগে এসে জনগণকে মিথ্যা গল্প শোনান, যেন সব উন্নয়ন আপনি করেছেন।’
সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মডেল মসজিদ, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাটের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই দেশের সব সেক্টরে এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এসব উন্নয়নের এমাত্র কাণ্ডারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’