আগামীকাল খুলনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল সোমবার (১৩ নভেম্বর) খুলনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। এ সময় উদ্বোধন করবেন ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে শিল্প, বন্দর ও বিভাগীয় নগরী খুলনায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নগরীর প্রতিটি সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে দুই শতাধিক তোরণ, মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও প্ল্যাকার্ড। সার্কিট হাউস ময়দানের আবাহনী ক্রীড়াচক্র প্রান্তে তৈরি করা হয়েছে নিচে নৌকা ও উপরে পদ্মা সেতুর আদলে ৯০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৪০ ফুট প্রস্থ ও সাড়ে ১৩ ফুট উঁচু সুবিশাল মঞ্চ। যেখানে অন্তত ৪০০ জন অতিথি বসতে পারবেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় আগমন ও সার্কিট হাউস মাঠের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিনস্তরের কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে। এরমধ্যে রয়েছে মহাসমাবেশস্থল, মহাসমাবেশস্থলের আশেপাশে এবং মহাসমবেশস্থলের বাইরে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক ইত্তেফাককে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনায় আগমন ও সার্কিট হাউস ময়দানের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তিনস্তরের কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, পোশাক ও সাদা পোশাকে মহাসমাবেশস্থল, মহাসমাবেশস্থলের আশেপাশে পোশাক ও সাদা পোশাকের এবং মহাসমবেশস্থলের বাইরে মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে মহাসমাবেশস্থলে নারী-পুরুষসহ লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হবেন-তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় সার্কিট হাউস ময়দান ও আশপাশ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

pic-1

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯টি মেগাপ্রকল্প খুলনাবাসীকে উপহার দেবেন। এরমধ্যে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ২৪টি প্রকল্প এবং ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৫টি প্রস্তাবিত প্রকল্প রয়েছে। 

খুলনা জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরিত প্রকল্পের তালিকায় (প্রস্তাবিত) রয়েছে মোট ২২টি প্রকল্প। এর মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের রয়েছে ৮টি। সেগুলো হলো- নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডে ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ভবন নির্মাণ কাজ, শামসুর রহমান রোডে সিভিল সার্জনের অফিস ভবন ও বাসভবন। খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন কাজ। খুলনা শিক্ষানবিশি প্রশিক্ষণ দপ্তর সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ। খুলনায় বিএসটিআই’র ১০তলা আঞ্চলিক অফিস স্থাপন ভবন। বিটাক, খুলনা কেন্দ্রে ১০তলা বিশিষ্ট নারী হোস্টেল ভবন নির্মাণ। পাইকগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ (সিভিল, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক) কাজ। নগরীর দৌলতপুরে কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ৪তলা ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ কাজ।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকোট্যুরিজম) সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প রয়েছে ১০টি। প্রকল্পগুলো হলো- ডুমুরিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫তলা অ্যাকাডেমিক কাম ৪তলা প্রশাসনিক ও ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ কাজ। বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি এল বি কে ডিগ্রি মহিলা কলেজ, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, চালনা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমুল মিল্লাত রহমাতিয়া ফাজিল মাদরাসা, নজরুলনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং আরআরএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ৬তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ। আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প হলো- ডুমুরিয়া উপজেলার চরচরিয়া শিবনগর সড়কে ভদ্রা নদীর ওপর ৩১৫ দশমিক ৩০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ।

উদ্বোধন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে- খুলনা সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প এবং খুলনা শহরে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খালিশপুর বিআইডিসি রোডে ড্রেন, ফুটপাত নির্মাণসহ রাস্তা প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণ কাজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে- নগরীর দৌলতপুরে অতিরিক্ত পরিচালকের ৬তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত অফিস ভবন। এছাড়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনযোগ্য প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে দুটি। তা হলো- খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ কাজ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৫তলা অ্যাকাডেমিক কাম ৪তলা প্রশাসনিক ও ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ কাজ।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা বলেন, খুলনার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। তারই ধারাবাহিকতায় খুলনায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমরা কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। আশা করি তিনি পর্যায়ক্রমে এগুলো বাস্তবায়ন করবেন।

খুলনার মহাসমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহাসমাবেশ শুরু হওয়ার অনেক আগেই খুলনা মহানগরীর রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নামবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আবেদীন জানান, ২৯ প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়। এগুলোর সব কয়টি অনুমোদন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।