টাইমড আউট নিয়ে এমসিসির বিবৃতি

ম্যাথিউস ভুল, বাংলাদেশ ও আম্পায়ার সঠিক

চলমান বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ৩৮তম ম্যাচে গেল ৬ নভেম্বর মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচেই প্রথম বারের মতো দেখা যায় ‘টাইমড আউট ডিসমিস্যাল’ অথবা ‘টাইমড আউট’। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বারের মতো এই আউটের শিকার হন লঙ্কান অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

আর তার পরই শুরু হয় বিতর্ক যা সপ্তাহ খানেক পার হলেও থামছে না। সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার, বিশ্লেষকরা দিচ্ছেন পক্ষে-বিপক্ষে নানান মত। কয়েক জন বাংলাদেশের এবং আম্পায়ারের পক্ষ নিচ্ছে আবার কয়েক জন ম্যাথিউসের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তবে সেই আউটের বিষয়টি পরিষ্কার করে বিবৃতি দিল ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাথিউস আউট হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এবং আলোচিত আউটের এই ঘটনাটিও ক্রিকেটীয় চেতনার পরিপন্থি নয়।

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের ঐ ম্যাচে ২৫তম ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পর মাঠে ঢোকেন ম্যাথুস। এ সময় অনফিল্ড আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওর্থ তাকে জানান, প্রথম বল মোকাবিলা করার জন্য তার ৩০ সেকেন্ড সময় আছে। পপিং ক্রিজে গেলেও নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিটের মধ্যে প্রথম বল মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ম্যাথুস। এ সময় আঁটসাঁট করতে গিয়ে তার হেলমেটের ফিতা ছিঁড়ে যায়। ইশারা করে নতুন হেলমেট আনতে বলেন লঙ্কান এই অলরাউন্ডার, একজন হেলমেট নিয়ে মাঠেও যান।

কিন্তু ততক্ষণে দুই মিনিট পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে আম্পায়ারের কাছে টাইমড আউটের আবেদন করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাস নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাকিবকে জিগ্যেস করেন, তিনি সত্যিই এই আবেদন করছেন কী না। সাকিবের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে ম্যাথিউসকে আউটের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়াররা। বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ ম্যাথিউস মাঠ ছেড়ে যান। বাইরে গিয়ে সেই হেলমেট তিনি ছুড়ে ফেলেন মাটিতে। আর তারপর থেকেই শুরু হয় বির্তক

এ আউট নিয়ে আইসসির ক্রিকেট আইনের ৪০.১.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাটার আউট বা রিটায়ারমেন্ট নেওয়ার পর পরবর্তী ব্যাটারকে অবশ্যই তিন মিনিটের ভেতর (বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে দুই মিনিট) বল খেলতে হবে অথবা বল খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তা না হলে ব্যাটার টাইমড আউট হবেন।

এই ঘটনার পাঁচ দিন পর মুখ খুলেছে এমসিসি। গত পরশু এক বিবৃতি দিয়ে এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, ‘নিয়মের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন ব্যাটসম্যানকে আগের আউটের দুই মিনিটের মধ্যে প্রথম বল খেলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। মাঠে ঢোকা বা উইকেটে থাকাও টাইমড আউট এড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রথম বল খেলার অবস্থায় থাকতে হবে ব্যাটসম্যানকে। আম্পায়ারদের মনে হয়েছে, দুই মিনিট সময়ের মধ্যে প্রথম বল মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ম্যাথিউস। এরপর তার হেলমেটেও সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে আরও সময় নষ্ট হয়।’

তবে যদি নতুন হেলমেট চাওয়ার আগে আম্পায়ারদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতেন ম্যাথিউস তাহলে এমন বিরল আউটের শিকার না ও হতে পারতেন লঙ্কান এই অলরাউন্ডার বলে মনে করেন এমসিসি। সংস্থাটি বিবৃতিতে এ বিষয়ে বলেন, ‘ত্রিশ গজের বৃত্তে যেতেই ৯০ সেকেন্ড লেগে যাওয়ায় ম্যাথিউস হয়তো বুঝতে পারেন, সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছেন তিনি। তাই বাকি পথ কিছুটা দৌড়েই যান তিনি। আগের উইকেট পড়ার ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের মাথায় তার হেলমেটের সমস্যা দেখা দেয়। ওই মুহূর্তে তিনি গার্ড নেননি এবং বল খেলার জন্যও প্রস্তুত ছিলেন না। যখন হেলমেটে সমস্যা হলো, তখন আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেননি ম্যাথিউস। সাধারণত নতুন সরঞ্জাম আনার ক্ষেত্রে তা করতে হয়। কিন্তু তিনি নতুন হেলমেটের জন্য সরাসরি ড্রেসিং রুমের দিকে ইশারা করেন। তিনি যদি আম্পায়ারকে বলতেন কী হয়েছে এবং সময় চাইতেন, তাহলে তারা (আম্পায়ার) হয়তো টাইমড আউটের বিষয়টি এড়িয়ে হেলমেট পরিবর্তনের জন্য সময় দিতেন।’

এদিকে ‘টাইমড আউট’ ক্রিকেট চেতনার পরিপন্থী কি না সম্পর্কে এমসিসি লেখে, ‘এই নিয়ম না থাকলে একজন ব্যাটার উইকেট পড়ার পর সময়জ্ঞানের পরিচয় না দিয়ে অযথা সময় অপচয় করতে পারেন। যখন দিনের আলো কমতে থাকে এবং ড্র সম্ভাব্য ফল হতে পারে, তখন এই সময় অপচয় একটি সমস্যা হতে পারে। এছাড়া সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মন্থর ওভার রেটের কারণে ফিল্ডিং দলকে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়। এমনকি ব্যাটারের ভাবনায় যদি সময় অপচয় নাও থাকে, তবু খেলাটির গতি ধরে রাখতে ও দুই উইকেটের মাঝে অহেতুক বিরতি এড়াতে টাইমড আউটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’