দুশ্চিন্তা বাংলাদেশ দলের

ম্যাচের সময় ঠান্ডা থাকবে মেলবোর্নে

বিশ্বকাপের বাছাই খেলতে বাংলাদেশ ফুটবল দল এখন অস্ট্রেলিয়ার মোলবোর্ন শহরে। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় খেলা শুরু হবে। আর সন্ধ্যার এ সময়টায় মেলবোর্নের আবহাওয়া খুব ঠান্ডা থাকে। খেলোয়াড়রা যদি ঠান্ডার প্রকোপ এড়িয়ে চলতে না পারেন, কিংবা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারেন, তাহলে ভোগান্তি আছে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ম্যানেজার আমের খান জানালেন ঠান্ডা আছে। আলাদা করে পোশাক আনা হয়নি। আমার মনে হয়, ওয়ার্মআপ করার পর সমস্যা থাকবে না।’ না থাকলে ভালো। তবে এরই মধ্যে নাকি ফুটবলাররা ঠান্ডা লাগার কথা জানিয়েছেন। আমের খান বললেন, ‘তারিক কাজী আর জামাল ভুঁইয়া বলছেন তাদের কোনো সমস্যা নেই। সামারে যে ধরনের আবহাওয়া থাকে, সেটাই আছে এখানে। এই দুই জন ছাড়া অন্যরা বলছেন তাদের গায়ে ঠান্ডা লাগছে।’

আমের খানের সূত্রে জানা গেল, মেলবোর্নে দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া খুব ভালো। এর পর থেকে পরিবর্তন হতে থাকে। সন্ধ্যায় আবহাওয়া ঠান্ডা হয়। আমের খান বললেন, ‘ঝড় আসার আগে ঠান্ডা একটা বাতাশ বইতে থাকে। ঠিক সে রকমভাবেই আবহাওয়া পরিবর্তন হয়। রাতে যখন খেলা হবে, তখন ঠান্ডা থাকবে বলে মনে হচ্ছে।’

২০ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণের পর ক্লান্তি কাটাতে বিশ্রাম নিতে হয়েছে। তাই অস্ট্রেলিয়া পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ দল ফুটবল অনুশীলন করেনি। প্রয়োজন হয়নি। আজ প্রথমবার অনুশীলনে নামবেন জামাল ভুঁইয়া, রহমত মিয়া, গোলরক্ষক মিতুল মারমা, সাদ উদ্দিন, গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ, গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেন, বিশ্বনাথ ঘোষ, মজিবুর রহমান জনি, তারিক কাজী, সোহেল রানা, হূদয়, সুমন রেজা, রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমরা। রিকভারি সেশন কাটিয়েছেন। জিম করেছেন। আধুনিক জিম। সব রকম সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেখানে। ফুটবলাররা দারুণ খুশি এমন একটি জিমে প্রবেশ করে, পরিশ্রম করলেও আত্মতৃপ্তি নিয়ে ফিরেছেন হোটেল রুমে।

অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল কার্যক্রম পরিচালিত হয় সিডনি থেকে। মেলবোর্নে কোনো কিছু হলে মেলবোর্ন থেকেই কর্মকর্তাদের দিয়ে কাজ চালানো হয়। মূল ভেন্যু এখনো দেখা হয়নি। এমনকি আজ যে মাঠে অনুশীলন হবে সেটিও দেখার সুযোগ হয়নি ফুটবল দলের। শুধুমাত্র একজন এসে বাংলাদেশ দলকে জানিয়ে গেছেন সাহায্য করার জন্য একজন প্রস্তুত আছেন। তিনি বাংলাদেশ দলের জন্য নারী লিয়াজোঁ অফিসার, নাম জেনি লি।

বাংলাদেশ দলকে জানিয়েছেন, কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে জানিও। ফোন নম্বরসহ তার সম্পর্কে সব তথ্য দিয়ে গেছেন। জানিয়ে গেছেন মেলবোর্নে ফুটবল অস্ট্রেলিয়ার বড় কোনো অফিস নেই। তাই বলে কোনো সমস্যাও নেই। জেন লি অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে কাজ করেছেন, স্পোর্টস ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, জেনি লি অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলের নানা শাখায় কাজ করেছেন। গতকাল বাংলাদেশ দলকে ১০টা ফুটবল দিয়ে গেছেন। অনুশীলন বল এবং ম্যাচ বল দুটোই দেওয়া হচ্ছে। যেন বাংলাদেশ দল মানিয়ে নিতে পারে। হাতে স্বল্প সময় এত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের কোনো তুলনাই হয় না। অস্ট্রেলিয়া ছয় বার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। বিশেষ করে ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ, টানা পাঁচ বিশ্বকাপ খেলছে। এবার সবচেয়ে ভালো সাফল্য করেছে অস্ট্রেলিয়া, কাতারে ১১তম হয়েছে তারা। কাতার বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ ছিল আর্জেন্টিনা, তিউনিশিয়া, ডেনমার্ক, ফ্রান্স। ডেনমার্ক এবং তিউনিশিয়াকে হারিয়েছে। ফিফার র্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থান ২৭ এবং ১৮৩ নম্বরে বাংলাদেশ।