হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ইমদাদুল হক মিলন ও ময়ূখ রিশাদ

এ বছরের ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’ পেলেন দুই প্রজন্মের দুজন কথাসাহিত্যিক। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ইমদাদুল হক মিলন ও নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে ‘রাইরিন্তার শেষ উপহার’ গল্পগ্রন্থের জন্য মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এ পুরস্কার পান।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বিকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে এবং দেশের নবীন-প্রবীণ কথাসাহিত্যিকদের অনুপ্রাণিত করতে ২০১৫ সালে এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় পাক্ষিক 'অন্যদিন' এই পুরস্কার প্রবর্তন করে।

আব্দুল্লাহ নাসেরের সঞ্চালনায় শামা রহমানের সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এক্সিম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. আব্দুল বারী ও নির্মাতা সংগীতশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন।

আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠানে সংশাবচন পাঠ করেন ঢাবির বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আজিজুল হক ও কথাশিল্পী বিশ্বজিৎ চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যের জন্য আমাদের হুমায়ূন আহমেদের খুবই দরকার ছিল। হুমায়ূন আহমেদ যদি আজকে থাকতেন তাহলে হয়তো সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য আরো সামনে যেতে পারত। আমি এইটুকু আশাবাদী যে হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে ইমদাদুল হক মিলনসহ নবীন সাহিত্যিক এবং তার বাইরেও যে বিশাল এক সাহিত্যিক গোষ্ঠী আমাদের গড়ে উঠছে তারা পৃথিবীর বুকে বাংলা ভাষার যে অবস্থান, সেই অবস্থানকে বাংলা সাহিত্যের অবস্থানে পরিণত করবে, বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যে পরিণত করবে সেই প্রত্যাশা আমি ব্যাক্ত করতে পারি।

পুরস্কার গ্রহণের পর ইমদাদুল হক মিলন বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্তি অনেক অনেক আনন্দের একজন লেখকের জন্য। একজন লেখক যখন পুরস্কার পান তখন তার মনে হয় যে তিনি যে কাজটি করেছেন তার একটি মূল্যায়ন হলো। আজ পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দের সঙ্গে আমার মন বিষাদে ছেয়ে আছে। তিনি বড় অকালে চলে গেছেন। যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি আরও লিখতেন। বাঙালি পাঠক তার সৃষ্টিশীলতায় উজ্জ্বীবিত হয়ে থাকত। আমি মন্ত্রমুগ্ধ থাকতাম, আবিষ্ট হয়ে থাকতাম, সেটাই হতো আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

মাহবুব ময়ূখ বলেন, ‘আমার গল্পে আমি ম্যাজিক ক্রিয়েট করতে চাই। সে হোক বাস্তব কিংবা অবাস্তব। হুমায়ূন আহমেদের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার আমাকে সে পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি, কথাশিল্পী ও ইমিরেটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, নিঃসন্দেহে ইমদাদুল হক মিলন বাংলা সাহিত্যের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমি নিশ্চিত ইমদাদুল হক মিলন আরো লিখবেন। মাহবুব ময়ূখ রিসাদ ভিন্ন ধারার লেখক। বিচিত্র অধিবাসীদের নিয়ে তার গল্প। তার ভাষা তার চিত্রকর্ম নির্মাণ খুবই অসাধারণ।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ সালে শুরু হওয়ার পর এই দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছিলেন শওকত আলী এবং সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম। ২০১৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক এবং স্বকৃত নোমান। ২০১৭ সালে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছিল জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত এবং মোজাফ্ফর হোসেনের হাতে। ২০১৮ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন রিজিয়া রহমান এবং ফাতিমা রুমি। ২০১৯ সালে পুরস্কার পেয়েছিলেন রাবেয়া খাতুন ও সাদাত হোসাইন। ২০২০ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন হাসনাত আবদুল হাই ও নাহিদা নাহিদ। ২০২১ সালে পুরস্কার পেয়েছিলেন সেলিনা হোসেন ও ফাতেমা আবেদীন। ২০২২ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন আনোয়ারা সৈয়দ হক ও মৌরি মরিয়ম।