অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন বল নিয়ে দুশ্চিন্তা

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামী বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। হাতে সময় নেই। বাংলাদেশ ফুটবল দল এখন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে যাওয়ার পর বাংলাদেশ দলকে নতুন বল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই নতুন বলে খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আমের খান বলেছেন, ‘খুবই উন্নত মানের ফুটবল দেওয়া হয়েছে। ভালো ফুটবল। খেলে ভালো লাগছে।’ অনুশীলন মাঠে খেলে ভালো লাগলেও দুশ্চিন্তা আছে। এধরনের বলে খেলার অভ্যাস নেই। জামাল ভুঁইয়াদের। একথা সত্য। সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন দীর্ঘদিন দেশের ফুটবলের সঙ্গে কাজ করা ফুটবল কর্তা আমের খানের। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই বলে খেলার অভ্যাস নেই’। এটাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য। কারণ বাংলাদেশের ফুটবলাররা যে মানের ফুটবল দিয়ে লিগের ম্যাচ খেলেন। সেই নিম্নমানের ফুটবল দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের খেলোয়াড়দের খেলার অভ্যাস নেই।

অস্ট্রেলিয়া ফুটবল সংস্থা দুই দফায় ২০টি ফুটবল দিয়েছে। ১০টি ম্যাচ বল ১০টি প্র্যাকটিস বল। কোনোটাতেই খেলার অভ্যাস নেই। হাতে আছে। আর সব মিলিয়ে তিন দিন। এই দিনের অনুশীলনে বলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, যেটা কঠিন বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য। এ ধরনের ফুটবলের সঙ্গে অভ্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলাররা।

এধরনের ফুটবলে খেলা হলে শঙ্কা আছে, অভ্যাস না থাকার কারণে ম্যাচে নেমে বাংলাদেশ সুবিধা করতে পারবে কি না। কিক অফের পর অস্ট্রেলিয়ার শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানিয়ে নিতে নিতে খেলাটাই না শেষ হয়ে যায়।  আমের খান যেমনটি বলছিলেন নতুন বল খুব ভালো, তবে এধরনের নতুন বলে খেলে অভ্যাস নেই ঠিক আছে। এটা মানিয়ে নিতে হবে। দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে কি না সেটাই এখন চিন্তা।’

অতীতে বহুবার দেখা গেছে, যে ধরনের ফুটবলে খেলার অভ্যাস নেই সেধরনের ফুটবলে খেলতে গেলে নিখুঁত পাসিংটা হয় না। চেষ্ট রিসিভ, পায়ে রিসিভ কিংবা মাপা শট নেওয়া কঠিন। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় গোলরক্ষকদের। উড়ন্ত বল গ্রিপ করা কঠিন হয়ে যায়।  বাতাসে ভেসে আসা বলের গতি বোঝা যায় না। বুঝে ওঠার আগেই প্রতিপক্ষ হেড করে বসেন জালে। অনেক সময় চোখ-মুখে অন্ধকার দেখা যায়। ৯৪ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে জাপানে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ, গোলরক্ষক কাননরা এমন বিপদে পড়েছিলেন। ঢাকায় ফিরে বলেছিলেন, তারা নাকি ঝড় দেখেছেন। আগুনের গোলার মতো বল জালের দিকে ধেয়ে আসছিল।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন গোলরক্ষক মিতুল মারমা। খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই তার। ধরেই নেওয়া হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিতুল মারমা খেলবেন। মিতুলকে ভালোভাবে গড়ে তোলার চেস্টা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলতে পারবে না। তারা চাইছে গোলপোস্ট, রক্ষণভাগ মাঝমাঠের দুয়ার যাতে সহজেই ভাঙতে না পারে অস্ট্রেলিয়া। সেই দিকে মনোযোগ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। তরুণ গোলরক্ষক মিতুলও চাইছেন ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যানস দেখানোর। জাপানের চেয়েও অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শক্তির কথা সবার জানা। সেই দেশের বিপক্ষে লড়াই হবে, অস্ট্রেলিয়া মুখে মুখে যতই বলুক, তারা বাংলাদেশকে খাটো করে দেখছেন না। এটাও সত্য যে, বাংলাদেশকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামবে।

একদিকে বল নিয়ে চিন্তা, অন্যদিকে ঠান্ডা আবহাওয়া। ম্যাচ চলাকালীন প্রচুর ঠান্ডা পড়ে। এধরনের ঠান্ডা বাতাসে খেলার জন্য যেধরনের জার্সি নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা বানিয়ে নিয়ে যায়নি বাংলাদেশ। ফুটবলাররা মনে করছেন ওয়ার্মআপ করলে শরীর উষ্ণ হয়ে যাবে। খেলার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রাও বেড়ে যাবে। ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিশেষ কাপড়ের জার্সি না নেওয়ার খেসারতও দিতে হতে পারে।