গায়েন আব্দুল আজিজের পালা অনুসারে - ‘দিদার বাদশার পালা’

১৪ নভেম্বর, সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় মঞ্চায়ন হয় ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য ‘দিদার বাদশার পালা’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের (২০১৯-২০ সেশন) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দেশজ নাটকের আঙ্গিকে নাটক পরিবেশন করতে হয়। এরই একটি হচ্ছে এই পালানাট্য।

এই লোকনাট্যের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবীর মহাজন। গায়েন আব্দুল আজিজের পালা অবলম্বনে গাজীর গানের কাহিনী নিয়ে রচিত এই পালা। পালাটি সংগ্রহ করেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ। 

এই পালানাটকের গল্পে দেখা যাবে, বৈরাত নগরের রাজা সেকান্দর বাদশা জানতে পারেন তার জায়গা দোযখে নির্ধারিত। এতে তার মনে অশান্তির ঝড় উঠে। তার মেঝপুত্র জনমতীকে কুরবানী দিলে তার মুক্তি মিলবে। একথা শুনে জনমতী পিতার জন্যে কুরবানী হতে রাজি হয় । কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় জনমতী বাদশার স্ত্রী পঞ্চতোলা সতী। এ নিয়ে জনমতী দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে সে কী করবে। এখান থেকে গল্পের শুরু এবং নানান বাঁধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে গল্প আগাতে থাকবে। এক সময় দেখা যায় জনমতী তার বিবির পরামর্শে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যায়। সেখানে তার বিবি পঞ্চতোলা স্বামী হারা হয়। সরোবরে জল পান করতে গেলে একটা দেওয়ের সাথে যুদ্ধ হেরে তাকে দেওয়ের পেটে চলে যেতে হয়। 

অন্যদিকে স্বামী হারা পঞ্চতোলার সন্তান জন্ম হয়। জনমতীর ভাই দয়াল গাজী তার নাম রাখেন দিদার বাদশা। এখান থেকে নাটকের মোড় ঘুরে ভিন্নরূপ নেয়। মাতৃভক্ত দিদার বুঝতে পারে না দেওয়ের চক্তান্তে তার মা আজ তারি প্রতিপক্ষ।  দেওয়ের কথা মতে তার সন্তানকে হত্যা করে মা গহর দরিয়ায় ভাসিয়ে দেয়। পরে সাইঝা পরী তাকে খোঁজে পায় এবং মৃত্যুঞ্জয়ী মালা পরিয় পুনরায় জীবিত করে এবং মায়ের কাছে ফিরে আসে।

সর্বশেষে দেখা যায় জনমতীকে দৈত্যের পেট থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তার সন্তান ও স্ত্রীর সাথে মিলনের মাধ্যমে নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটবে। নাটকটি বহু রসে সিক্ত। দর্শক যেমন প্রাণখোলা হাসবেন, অন্যদিকে করুণ রসে অশ্রুসিক্ত করে তোলবেন। পক্ষান্তরে দর্শক, গাজীপীরের অলৌকিক শক্তি সম্পর্কে অবগত হবেন। 

পালানাট্যে গায়েন-দোহারের মধ্যে দিয়ে গল্প প্রবাহিত হয়। এই পালায় গায়েন ও দোহার রূপে কাজ করছেন নাট্যকলা বিভাগের একঝাঁক শিক্ষার্থী। তারা হলেন- প্রমি, আফ্রিদি, শয়ন, রাশেদ, মাসুম, রিংকী, ঈশাদ, শান্তনা, প্রিয়া, শফিক, হৃদয়, নিপু, সামি, নেজাম, রুদ্র, অপি, নির্জনা, ক্যাউ, অন্তর দে, রানা দাশ, সুমাইয়া, উর্মি, রবিউল, অরুন্ধতি, প্রিয়া দেব, পায়েল, পারমিতা, নাজনীন আক্তার, আবু সাঈদ, আব্দুল আহাদ।

এই নাট্যে ভিন্নতাও লক্ষ্য করা যাবে। গীত, নৃত্য, নাট্যের মাধ্যমে পুরো পালাটি একটি অনন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে। নাটকের আলোক পরিকল্পনায় আছেন সুবীর মহাজন । নাটকের পোস্টার ডিজাইন করেছেন- স্নিধা দেব। আবহ সংগীত পরিচালনা ক্যাউপ্রু মার্মা, নওয়াজেশ আশ্রাফ ঈশাদ, অরুন্ধতি, সামি বিন জাহেদ, আসিফ ইকবাল রুদ্র, উম্মে হাবিবা প্রমি, স্নিগ্ধা দেব, নীলিমা ইসলাম নির্জনা, রানা দাশসহ আরো অনেকে।