চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীতে তীব্র ভাঙন

চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নে ফের শুরু হয়েছে ডাকাতিয়া নদীর ভাঙন। ঐ গ্রামের ইউসুফ খান বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিনে ডাকাতিয়ার করালগ্রাসে তলিয়ে গেছে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাত্ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে এলাকাটি। ডাকাতিয়া নদী প্রতিবছর অল্প অল্প করে ভাঙে। গত এক দশকে শুধু মৈশাদীতেই ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকার অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি। এত ক্ষতির পরও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে যায়। অচিরেই নদী ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভিটেমাটি হারিয়ে রাস্তায় ছিন্নমূল হয়ে পড়বে ঐ এলাকার নদীর পাশে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারকে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার জানান, ‘প্রতি বছর নদী আমাদের জমি একটু একটু করে ভেঙে নিয়ে যায়। আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ সবাইকে বিষয়টি অবহিত করেছি। সবাই আশ্বাস দিয়ে যান। কিন্তু কাজ হয় না। অল্প অল্প করে ভাঙে, তাই কেউ আমাদের দিকে নজর দেন না। গত ১০ বছরে আমাদের এলাকার প্রায় এক কিলোমিটারের মতো জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। ছিন্নমুল হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক পরিবার। এখন আমাদের ভিটেবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। বাড়িটা নদীতে তলিয়ে গেলে থাকব কোথায় জানি না। রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হবে।’ ভাঙন এলাকায় বসবাসকারী আসমা বেগম জানান, ‘এখন নদীটি যেখানে ভাঙছে, সেখানে আমাদের বসতঘর, রান্নাঘর ছিল। গত বছর ঘরগুলো সরিয়ে নিয়েছি। এরপর আর জায়গা নেই। নদীতে ভাঙলে কী করব জানি না।’

নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে রয়েছে মৈশাদী রেল স্টেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজারসহ অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি। নদী ভাঙন রোধ না হলে হুমকির মুখে পড়বে এসব প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাই ক্ষতিগ্রস্তরা নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, ‘ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনের বিষয়টি বহুবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। বিভিন্ন মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার ও সচিত্র প্রতিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু মৈশাদীবাসীর দুঃখ লাগব হয়নি একটুও।’

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি জেনে আমি আমার দপ্তর থেকে লোক পাঠিয়েছি। নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, মৈশাদীসহ ডাকাতিয়া নদীর বেশ কয়েকটি এলাকা ভাঙনরোধে একটি ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি পাশ হলেই ভাঙন রক্ষায় কাজ শুরু করা হবে।