চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শীতকালীন সবজি জমি। প্রভাবশালীদের অবৈধভাবে খাল দখল করে মাছ চাষ করার কারণে বৃষ্টির পানি নামতে না পেরে এমন হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা কৃষকরা।
শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলা’র প্রভাবে চাঁদপুরে ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে অনেক শাকসবজি ও বীজতলা। উপজেলার পৌরসভাধীন বলাখাল শ্রীনারায়ণপুর, বলাখাল ও অলিপুরে প্রচুর পরিমাণে চাষ করা হয়েছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, ক্ষীরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবিজ। বৃষ্টির পানি আটকে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে এসব মাঠে পানি জমে যায়। এতে শ্রীনারায়ণপুর মাঠ, বলাখাল মাঠে কৃষকরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকেই কৃষকরা জানান, শ্রীনারায়ণপুর খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালি দেলোয়ার মাস্টার, রতন, কামাল, জাকিরসহ কয়েকজন মাছ চাষ করে। এতে ওই খাল দিয়ে শ্রীনারায়ণপুর মাঠ ও বলাখাল মাঠের পানি নামতে না পেরে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে আমাদের শত শত কোটি টাকার সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, ‘শ্রীনারায়ণপুর খালে বাঁধ দিয়ে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টি করে প্রতি বছর প্রভাবশালীরা মাছে চাষ করার কারণে আজ কৃষক পথে বসেছে। এই মাঠে প্রায় ১০০-১৫০ কানি জমিনের সবজি নষ্ট হয়ে গেল।’
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৬৮৫ হেক্টর জামিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার মেট্রিক টন। ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি গাছ নষ্ট হয়েছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিছু বিজতলা সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ হেক্টর হেক্টর জমির সবজি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অবৈধ খাল দখলদার কারণে চরমভাবে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তাদের দাবি, অন্তত ৬০০ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বলাখলাল গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘৫ একর জমিতে লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, ক্ষীরা ও শসা চাষ করেছিলাম। বৃষ্টির পানিতে সবগুলো ফসলে পচন ধরেছে। এখন কীভাবে চলবে সংসার আর কীভাবে কিস্তি পরিশোধ করবো- তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, ‘আমি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বলাখাল নারায়নপুর খালের বাঁধ কেটে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাজীগঞ্জের ইউএনও মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ বাধা কাটতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’