কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র আঘাতে বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে ইরি ধানের বীজতলা ডুবে যাওয়ায় এখানকার কৃষকরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার পোমগাঁও, মানরা, কাশই, বাংলাইশ, ডুমুরিয়া, মনিপুর, বান্দুয়াইন, শমশেরপুর, বাদুয়াপাড়া এলাকায় ১৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে লাইন বিপর্যস্ত হয়। বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলা’র প্রভাবে শুক্রবার দিনরাত টানা বৃষ্টিতে ফসলি মাঠে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ইরি ধানের জন্য তৈরি করা বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে শত শত কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলার লৎসর গ্রামের কৃষক বশির উল্ল্যা, হাটিরপাড় গ্রামের কৃষক এনায়েত উল্লা, খিলা গ্রামের কৃষক ইব্রাহীমসহ অন্তত ১০ কৃষক জানান, ইরিচারা রোপনের জন্য তৈরি বীজতলা ১২ ঘণ্টা টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর মনোহরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার (ডিজিএম) নীল মাধব বনিক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১৮টি বৈদ্যুতিক পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পোমগাঁও গ্রামেই রয়েছে আটটি। এসবের পিলারের মধ্যে বেশির ভাগ পিলার ভেঙে যায় এবং কিছু পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎ কর্মীরা বেশ কয়েকটি পিলারের সংযোগ দিয়েছেন। বাকি ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ চলছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মিধিলার প্রভাবে এই এলাকার বেশ কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকের ডুবে যাওয়া বীজতলা রক্ষায় পানি নিষ্কাশনসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’