কক্সবাজারে দুই যুবককে অপহরণ, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

শীত মৌসুম শুরু হতে না হতেই কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে ফের শুরু হয়েছে অপহরণ। বাজার থেকে সদাই করে ফেরার পথে সোমবার (২০ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সড়কের ঈদগড় পানেরছরা ঢালা এলাকা থেকে দুই যুবককে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে গেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা।

অপহরণের শিকার দুই যুবকের মাঝে একজন টমটমচালক মুহাম্মদ তারেক (২৬), অপরজন বীমাকর্মী শহীদুল ইসলাম (২৫)। অপহৃত টমটম চালকের বিয়ে আগামী শুক্রবার (২৪ নভেম্বর)। অপহরণস্থল থেকে টমটমটি উদ্ধার হলেও জিম্মি রয়েছেন চালক। তাকে মুক্ত করতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। 

অপহৃত টমটম চালক মুহাম্মদ তারেক (২৬) রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধুমছাকাটা এলাকার মো. ওসমানের ছেলে। বীমাকর্মী শহীদুল ইসলাম (২৫) একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছগিরাকাটা এলাকার দানু মিয়ার ছেলে।

ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম জানান, আগামী শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) অপহৃত তারেকের বিয়ে। এ উপলক্ষে কেনাকাটার বিষয়ে নিজের চালিত টমটম নিয়ে ঈদগাঁও বাজারে গিয়েছিলেন তারেক। সেখান থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়ে তারেকসহ টমটমে থাকা যাত্রীরা। গাড়িতে থাকা সবার টাকা ও মূল্যবান পণ্যসামগ্রী নিয়ে তারেক ও শহীদকে তুলে নিয়ে পাহাড়ে ঢুকে যান সশস্ত্র অপহরণকারীরা।

ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ ভুট্টো বলেন, ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কটির বেশির ভাগ এলাকা পাহাড় বেষ্টিত। সড়কের ভোমরিয়াঘোনা ফরেস্ট অফিস হতে ঈদগড় পর্যন্ত জায়গায় জায়গায় পাহাড় ঘেরা। এর মাঝে হিমছড়ি, পানেরছরা, বেঙডেবা ঢালাসহ আরো কয়েকটি এলাকা অনিরাপদ। এসব এলাকায় ডাকাতি করে দ্রুত পাহাড়ে উঠে গেলে তাদের আর ধরা সম্ভব হয় না। এসব এলাকায় যানবাহন ডাকাতির পর সুযোগ বুঝে অপহরণ করে তাদের পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শীত মৌসুমেই এ অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা বেশি ঘটে।

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) মনিরুল ইসলাম বলেন, অপহরণের খবর পেয়েই আমরা টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এসময় কাউকে ওখানে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে একজন পালিয়ে এসেছেন। অপরজনকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

ঈদগাঁও থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত ও প্রতিহত করতে উর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে যৌথ অভিযানের উদ্যোগ নেব।