পরকীয়ার বলি স্বামী, গ্রেফতার স্ত্রী

সাভারের আশুলিয়ায় পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনায় স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ইট দিয়ে মাথা থেতলিয়ে হত্যার ঘটনায় স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম খাদিজা খাতুন (২৮)। মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-৪ এর একটি দল আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির নাম দুরুল হুদা (৪২)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফতেহপুর গ্রামের বাহের আলীর ছেলে। দুরুল হুদা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বাতানটেক এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে একটি কীটনাশক কারখানার প্যাকিংম্যানের কাজ করতেন।

র‌্যাব জানায়, নিহত দুরুল হুদা গত ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে খাদিজা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ও আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে খাদিজা খাতুন স্বামী দুরুল হুদাকে হত্যার জন্য পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার কয়েক দিন আগে নিজের সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন খাদিজা খাতুন। পরবর্তীতে গত ১৯ নভেম্বর রাতের খাবার শেষে দুরুল হুদাকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানোর সময় কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। তার তীব্র  প্রতিক্রিয়ায় দুরুল হুদা অচেতন হয়ে পড়লে স্ত্রী খাদিজা ও তার প্রেমিক মিলে  তার  হাত-পা বেঁধে ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং মুখমণ্ডল ও মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে কেউ যাতে সন্দেহ না করে সেজন্য স্বামীর লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে প্রতিদিনের ন্যায় কর্মস্থলে চলে যান খাদিজা খাতুন। দুপুরে অফিস থেকে অসুস্থতার কথা বলে ঘরে ফিরে আসে এবং ঘরের মেঝেতে তার স্বামী দুরুল হুদার মরদেহ পরে আছে বলে চিৎকার করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরকীয়ার বিষয়টি সামনে এলে র‌্যাব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এবং অভিযুক্ত খাদিজা খাতুনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় খাদিজা খাতুনের প্রেমিককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।