২০২৬ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকার বাছাইপর্বে গতকাল ভোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুপার ক্লাসিকো ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। আর এই খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই রিও ডি জেনেরিওর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপ। দুই দলের সমর্থকরা জড়িয়ে পড়েন সংঘাতে। শুধু সংঘাত বললে ভুল হবে, কারণ এ সময় হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। পরিস্থিতিকে সামলানোর জন্য গ্যালারির দিকে ছুটে যান লিওনেল মেসি, মার্কোনিওসরা এবং শান্ত হতে বলেন সমর্থকদের।
এরপর মেসি-মার্টিনেজরা মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। এতে করে এই ম্যাচটি শুরু হতে দেরি হয় ৩০ মিনিট। তবে এখানেও দুই দলের সংঘাত হয়। তবে হাতাহাতি নয়, হয় উত্তেজিত বাক্যবিনিময়। মূলত মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ম্যাচ চলাকালীন রদ্রিগো ডি পল ও লিওনেল মেসির সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো কথার লড়াইয়ে নামেন।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসির মতে, ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ায় আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের ‘কাপুরুষ’ বলেছেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। তবে এই ব্রাজিলিয়ানের জবাব দিতে দেরি করেননি আট বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসি রদ্রিগোর জবাবে বলেছেন, ‘আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, আমরা কাপুরুষ হব কেন? নিজের চেহারার দিকে তাকাও।’
এর পরেই দুই দলের খেলোয়াড়রা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে, যাতে কথার লড়াই আর না এগোয়। উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে অবশ্য শেষ হাসি আর্জেন্টিনার। নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে ঘরের মাঠে ব্রাজিলের এটিই প্রথম হার।
এদিকে এই ম্যাচ শেষে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিং রুমে চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে মেসি বলেন, ‘সবকিছুকে শান্ত করার জন্য চলে যেতে হয়েছিল। আমরা দেখছিলাম ওরা কীভাবে মানুষদের পেটাচ্ছিল, যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। যখন সবকিছু কিছুটা শান্ত হয়, আমরা সিদ্ধান্ত নিই ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ার। (কোপা) লিবার্তোদোরেসের ফাইনালেও এমন হয়েছিল, এখন আবারও লাঠিপেটা করা হলো। খেলোয়াড়দের পরিবার সেখানে (গ্যালারি) ছিল। পরিবারই সবার আগে। ওখানে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি স্বজনরা কেমন আছে, সবকিছুর ব্যাপারেও জানতে চেয়েছি। এরপর আবার আমরা মাঠে ফিরেছি।’
অন্যদিকে ম্যাচ জয়ের পর নিজের ভেরিফাইড ইনস্টাগ্রামে মেসি লিখেছেন, ‘এই দলটা ইতিহাস গড়েই যাচ্ছে। মারাকানায় ঐতিহাসিক এক জয়। যদিও ব্রাজিলের মাটিতে আর্জেন্টাইনদের প্রতি আরও একবার নিপীড়নের কারণে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটা আর সহ্য করা যায় না। উন্মাদ অবস্থা, এখনই এর শেষ হওয়া দরকার।’