বন্ধুত্ব দৃঢ় করতে বাংলাদেশ ও চীনা শিল্পীদের প্রদর্শনী

চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার রাষ্ট্র। উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন করে দুই দেশের সাংস্কৃতিক দৃঢ়তার প্রমাণ পাওয়া গেল শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালায় শুরু হওয়া ‘আর্ট অ্যান্ড ফটোগ্রাফি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে। ‘ওপেনিং নিউ হরাইজোনস’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন দুই দেশের বরেণ্য শিল্পী ও আলোকচিত্রীরা।

রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়নের চিত্র, আবহমান বাংলার রূপের সঙ্গে উঠে এসেছে চীনের চলমান জীবনধারা ও তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চীনের ঈর্ষণীয় উন্নয়নের নানা গল্প। বাংলাদেশের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ও চীনের বন্ধুত্বের দশ বছর পূর্তিতে শিল্পকর্ম ও আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাস ও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই। চীন ও বাংলাদেশের শিল্পীদের প্রায় শতাধিক শিল্পকর্ম ও আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।

প্রদর্শনী উদ্বোধন করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ছবি: আব্দুল গনি

গতকাল সোমবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালার ২ নম্বর গ্যালারিতে ছয় দিনের এই প্রদর্শনী প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাইর সভাপতি মুন্সী ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এরকম একটি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সঙ্গে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মও অনেকখানি এগিয়ে গেল। দীর্ঘদিন থেকেই চীন-বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ছে। বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, চীন বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে। এখানে আমাদের বন্ধুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের তরুণদের মধ্যে ঐতিহ্য-সংস্কৃতি জেনে নিতে এবং নিজেদের মধ্যে ভানার আদান-প্রদান ও সহযোগিতা করাই আমাদের এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।

প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা। ছবি: ইত্তেফাক

নিসার হোসেন বলেন, ‘এই আলোকচিত্র এবং শিল্পকর্মের মাধ্যমে আমরা শুধু প্রতিভাবান আলোকচিত্রী এবং শিল্পীদেরই দেখছি না, আমরা আমাদের দুই দেশের অত্যন্ত উঁচু পর্যায়ের বন্ধুত্বকে দেখছি। একটি প্রকৃত বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক সেটিও আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সম্প্রতি আমরা চীনের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছি এবং সেটি করতে গিয়ে আমরা দেখলাম, চীনে শুধু চারুকলাই নয়, প্রতিটি বিষয়েই পৃথিবীর প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রয়েছে। ইউরোপের বহু দেশে গিয়েছি, তারা আমাদের দেখায়, তবে শেখাতে চায় না। কিন্তু চীন আমাদের শেখাতে চায়। তারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে এসেছে আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য। চীনের এই প্রবণতার জন্য এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।’

প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর ঘুরে দেখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই সময় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ফটোসাংবাদিক আব্দুল গনির সঙ্গে কথা বলেন এবং ছবির প্রশংসা করেন তিনি। ছবি: ইত্তেফাক

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। এটা শুধু এশিয়ার জন্য নয়, আমরা বন্ধুত্বের এবং শান্তির বার্তা বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দিতে চাই! সেক্ষেত্রে আমাদের নিজের এই ঐতিহ্যগুলো নিজেদের মধ্যে বিনিময় এবং জানাশোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী গ্যালারি। এই প্রদর্শনী শেষ হবে ২ ডিসেম্বর।