‘এটা একটা জীবনের জার্নি। প্রেম, সুখ ও দুঃখের নানা অনুভব এখানে উঠে আসবে। তিশা ও আমার যাপিত জীবনের না বলা অনেক গল্প। আমি দর্শকদের অনুরোধ জানাই ছবিটি তারা দেখবেন।’—নিজের নতুন সিনেমা ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কথাগুলো বলেন জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
গতকাল ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সিনেমাটি। সিনেমাটি শুধু নির্মাণ নয়, এতে প্রথমবারের মতো অভিনয়ও করেছেন ফারুকী। এছাড়াও সিনেমাটিতে তিশা ফারুকী দম্পতির মেয়েকেও দেখা যাবে। জানা গেছে, তিশা ফারুকীর জীবনের গল্পে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। এই জুটির প্রেমের গল্পে সিনেমাটির চিত্রনাট্যও যৌথভাবে লিখেছেন এই তারকা দম্পতি।
দর্শকদের ‘অটোবায়োগ্রাফি’ দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিশাও। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের নিজস্ব জীবনের গল্প। তবুও আমি বিশ্বাস করি, দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে গল্পটি।’ উল্লেখ্য, এর আগে দেশ-বিদেশের অনেক দাপুটে অভিনেতাকে নির্দেশনা দিয়েছেন ফারুকী। কিন্তু এবার নিজেই প্রথমবার ক্যামেরার সামনে! স্বভাবতই নিজের নতুন পরিচয় নিয়ে ভীষণ উত্তেজিত তিনি।
একে তো প্রথমবার অভিনয়, তার ওপর নিজের চরিত্রে। সেই উচ্ছ্বাস কিছুটা টের পাওয়া গেল নির্মাতার ভাষ্যে। তিনি বলেন, ‘মনের মধ্যে কী চলছে তা ব্যাখ্যা করা মুশকিল। ফার্স্ট টাইম ফিল্মমেকারের উত্তেজনা টের পাচ্ছি।’ ফারুকী আরও বলেন, ‘আমি নানা রকম গল্প বলার চেষ্টা করেছি। সেগুলোর একেকটা একেক রকমভাবে মানুষকে স্পর্শ করেছে। অভিনয় কেমন হওয়া উচিত, কোন গল্প বলা জরুরি-এসব নিয়ে সারাক্ষণই নিরীক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যে কাজটা কখনোই করার চেষ্টা করিনি, তা হলো অভিনয়। প্রথম দিকে আমার মধ্যে ইতস্তত ভাব থাকলেও তিশা আমাকে একটা কথা বলে, সংশয় দূর করে দেয়। তাই হয়তো শুটিং শুরুর পর তেমন কোনো আলাদা অনুভূতি হয়নি।’
এর আগে সিনেমাটি বুসান ও মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শিত হয়েছে। যেখানে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। এবার দেখার পালা দেশের দর্শক-সমালোচকদের কতটা মন জয় করতে পারেন তিশা-ফারুকী দম্পতি। সিনেমাটিতে ফারুকী-তিশা ছাড়াও অভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের, শরাফ আহমেদ জীবনসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, ১২ জন নির্মাতার ১২টি সিনেমার প্রজেক্ট ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’। এটির তত্ত্বাবধানে আছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আর এই প্রজেক্টের অংশ হিসেবে দুটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি নিজেই। একটি ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, অন্যটি ‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’। মনোগামীতে অভিনয় করে সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন সংগীতশিল্পী জেফার রহমান। তাকে মধ্যবিত্ত পরিবারের এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। তার বিপরীতে হাজির হবেন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।