এগিয়ে যাওয়া

ভালো কাজের মাধ্যমে জায়গা করে নিতে চাই

নারীদের জন্য সামাজিক

সচেতনতামূলক কাজ করতে চাই।

পরিস্থিতি যেমনই হোক, এগিয়ে যেতে

হবে। এজন্য শিক্ষাটা দরকার

  আসিফ আল আজাদ

 

ফারজানা আফরিন পূর্বার বাড়ি ঝিনাইদহে হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি এবং ধানমন্ডির উইমেনস ফেডারেশন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে প্রথমে শিকদার মেডিক্যাল কলেজে ডেন্টালে ভর্তি হন। কিন্তু ডেন্টালে পড়ার ইচ্ছা ছিল না। পরে সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়। ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ-গান, অভিনয়ে মেলে ধরেছেন নিজের প্রতিভাকে। অনার্স শেষ করে স্কয়ার হাসপাতালে করেছেন ইন্টার্নশিপ। ইচ্ছা আছে, মেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর স্নাতকোত্তর করার।

পূর্বা ২০১৭ সালে প্রাণ আরএফএল নিবেদিত ইউনার মডেল হান্ট কনন্টেস্ট বিজয়ী হন। তারপর থেকে নিয়মিত মিডিয়াতে পথচলা শুরু। আর ছোট থেকে নাচ করতাম। বিটিভির নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে-২০০৪ সালে লোকনৃত্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। নাচ-গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, খেলাধুলা সবকিছুর শুরু ছোট থেকেই। নাচের হাতেখড়ি বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা) থেকে। আমার মা চাইতো, আমি পড়ালেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সেরা থাকি। এজন্য স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের আদরের ছিলাম।

পূর্বা মিডিয়াতে নিজের একটা জায়গা করে নিতে চাই ভালো কাজের মাধ্যমে। অনেকেই বলে একসঙ্গে সব করা যায় না। আমি মনে করি, ইচ্ছা শক্তি আর নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলে সব সম্ভব। তারা সবসময় চাইতো- আমি নিজে আত্ম-নির্ভরশীল ও প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যর্থতাকে জয় করতে হবে। আমার বাবা বলতেন, মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়াটা খুব দরকার।

নাচ থেকে একটু দূরে সরে এসেছি। এখন অভিনয়ে সময় দিতে চাই। তবে নাচের প্রতি ভালোবাসাটা আছে। সেরকম সুযোগ থাকলে কোরিওগ্রাফির কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। আমি খুব ধীরে এগোতে চায়। বেছে কাজ করি। তাই সবসময় ব্যস্ততা থাকে না। মডেলিংটা নিয়মিত করছি। ফ্যাশান হাউজগুলোর সুট করা হয় বেশি। এ বছর সত্য গল্প অবলম্বনে আমার অভিনীত প্রথম শর্টফিল্ম ‘প্রেমিক ১৯৮২’ মুক্তি পায়। অভিনয়ের হাতে খড়ি এটা দিয়ে। ইতোমধ্যে প্রাণ আরএফএলের তিনটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। সামনে বেশ কিছু টিভিসি, মিউজিক ভিডিও একটা ওয়েব সিরিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।     

সময় পেলে ভালো লাগে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, বই পড়তে, ঘুরতে যেতে, মুভি দেখতে ও পোষা বিড়ালের সঙ্গে খেলতে। নারীদের জন্য সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করতে চাই। পরিস্থিতি যেমনই হোক, এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য শিক্ষাটা দরকার। আমাদের সমাজে নারীদের এখনো কটূ কথা শুনতে হয়, অনেকে ভালোটা চায় না, সেই ক্ষেত্রে এইসবে কান না দিয়ে সাফ্যলের পথে হাঁটতে হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।