চট্টগ্রামে সক্রিয় চাঁদাবাজ গোষ্ঠী

চাঁদা না পেয়ে নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো হচ্ছে ভুয়া মামলায়

চাহিদামতো চাঁদা না পেয়ে নিরীহ লোকজনকে নানা ধরনের অভিযোগে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এভাবেই নিরীহ লোকজনকে বেকায়দায় ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। 

অভিযোগ পাওয়া গেছে, জায়গা-জমি ক্রয়বিক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালুসহ নানা অজুহাতে চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বা টাকার পরিমাণ কমবেশি হলে এলাকাছাড়া করার কিংবা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে দেরি হলে দাবি করা চাঁদার পরিমাণও বেড়ে যায়। হুমকি-ধমকিতে কাজ না হলে টার্গেট করা ব্যবসায়ী বা জমির মালিকের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণভয়ে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপ নেন না। নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য সন্ত্রাসীদের হাতে টাকা তুলে দেন। তবে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কেউ আইনের শরণাপন্ন হলে পালটা মামলা দিয়ে তাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় এভাবেই দুর্বৃত্তদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, জেলার হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ এলাকায় আবুল হাশেম নামে এক প্রবাসী তার নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা আবুল হাশেম, ঠিকাদার আফতাব ও তার ভাই শাহাদাত হোসেনসহ কয়েক জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৫ মার্চ মো. খাইরুল ইসলাম জিহানসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও সাত-আট জনকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন প্রবাসী আবুল হাশেম। একই বছরের ২১ মে আদালতে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি খাইরুল ইসলাম জিহান ও মো. ইকবাল ওরফে টাইগার ইকবালকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি আকাশ মজুমদারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।  

উক্ত মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য খায়রুল ইসলাম জিহানসহ অন্য আসামিরা তাদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। এতে কাজ না হওয়ায় প্রবাসী আবুল হাশেম, ঠিকাদার আফতাব, সুজন, সাজ্জাদ, শাহাদাতসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সংঘবদ্ধ হয়ে মারধর, চুরি ও ভয়ভীতি দেখানোর’ অভিযোগে আদালতে একটি সিআর মামলা করেন খাইরুল ইসলাম জিহান। মামলার অন্যতম আসামি মো. শাহাদাত ইত্তেফাককে বলেন, ‘খাইরুল ইসলাম জিহান এলাকার একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও সে এসবের পরোয়া করে না। জিহান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকায় ভয়ে কেউ কথা বলে না। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সে আমি ও আমার ভাইসহ ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে, যা সম্পূর্ণ মনগড়া। আসামিদের মধ্যে দুই জনকে আমি চিনিও না।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু একটি মামলা হয়েছে, তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি সাজা পাবে না।