অনুশীলন আর পত্রিকা পাঠের প্রতিনিয়ত অভ্যাস জরুরি। আর হ্যাঁ
অবশ্যই ইচ্ছা পূরণের সাধনা থাকতে হবে। তবেই সাফল্য
ধরা দেবে বলে মনে করেন তিনি
নাজমুস সাকিব
বাবা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার সুবাদে জন্ম গাজীপুরে হলেও বেড়ে উঠা আর পড়ালেখা শেকড়ের শহর পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। তিন বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে সোহেলি চাকমা সবার ছোট। এজন্য ছোটবেলা থেকে সবার আদর ভালোবাসা একটু বেশিই পেয়েছেন।
খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসির পর ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা ও সংস্কৃত বিষয়ে। পড়াশুনায় বরাবরই মেধার স্বাক্ষর রাখা সোহেলি চাকমা আটকে থাকেননি শুধু ক্লাসরুমেই। একের পর এক জড়িয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ডে। মেধা ও যোগ্যতার জোরে স্বীকৃতিও পেয়েছেন সর্বত্র। পরিচিতি ছড়িয়ে গেছে জন্মস্থান আর বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে দেশজুড়ে। দেশের বাইরেও অনেকে তাকে চেনেন উপস্থাপিকা হিসেবে। রেজাল্টে প্রথমসারির দিকে থাকায় ছোট বেলা থেকেই ক্লাস প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পড়াশুনার পাশাপাশি করতে থাকেন গানের চর্চা। সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততা। এ প্রসঙ্গে সোহেলি বলেন, বড় দিদি আর ছোট দিদি দুইজনাই নাচ করতো। বলা যায় বাড়িতে সাংস্কৃতিক চর্চা আগে থেকেই ছিল। তবে, আমার গানের প্রতি আকর্ষণ বেশি ছিল। একদিন একটা পিকনিকে (ফান বক্সে) লটারিতে আমার ভাগ্যে উঠে গান। তখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তাম। আমি গান করি এবং প্রথম পুরস্কারটা আমিই পাই। এরপর পরিবার আমাকে গানের ক্লাসে ভর্তি করে দেয়। এর পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোরাস গাইতে গাইতে একসময় একক গান গাওয়া শুরু করি। তবে যে কথা না বললেই নয়- আমি অলস প্রকৃতির হওয়ায় সকালে উঠে রেওয়াজ করতে চাইতাম না। কিন্তু সেই সময় আমার মা আমাকে জোর করে রেওয়াজ করিয়েই ছাড়তেন।
তিনি জানান, কিছু ত্রিপুরা ভাষায় মৌলিক গান আর একটি মৌলিক বাংলা গানও গেয়েছেন। যার কথা ও সুর তার নিজেরই।
২০১৩ সালে এটিএন বাংলার রিয়েলিটি শো ‘নাট্য যুদ্ধ’তে অংশগ্রহণ করে জেলাভিত্তিক সাফল্য পান সোহেলি চাকমা। এছাড়া ২০১৫-২০১৬ সালে এটিএন বাংলার ‘শৈল-সমতল’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন। ২০১৪ সাল থেকে উপস্থাপনা করছেন বিটিভি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান। তবে সংবাদ জগতের সম্পৃক্ততা ২০১৭।
কিভাবে হলেন খবরের মানুষ? সোহেলি জানান, পূর্ব পরিচিতির সুবাদে খাগড়াছড়ির সাংবাদিক প্রদীপ চৌধুরী দাদা জানান, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে চট্টগ্রাম অফিসে প্রেজেন্টার নেবে। চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে দিনে দুইটি করে সরাসরি সংবাদ প্রচার হয় চট্টগ্রাম অফিস থেকে। তাই সুযোগটা লোভনীয় মনে হয়। আবেদন করে অডিশন দেই। এরপর টিকে যাই।
সংবাদ উপস্থাপনার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাইভে বসে সারা দেশবাসিকে খবর জানানো দারুণ এক অনুভূতির জন্ম দেয়। বিষয়টি সহজ মনে হলেও যে তথ্য দিচ্ছি এটাকে দর্শক কতটুকু গ্রহণ করছে বা তাদের সেই মুহূর্তে আমি তাদের সাথে কতটা কানেক্ট হতে পারছি অনেক বড় চ্যালেঞ্জের। কোনো মেয়ে যদি সংবাদ পাঠে আগ্রহী হয়, তাদের জন্য বেশি বেশি করে ভালো প্রেজেন্টারদের নিউজ দেখা, অনুশীলন আর পত্রিকা পাঠের প্রতিনিয়ত অভ্যাস জরুরি। আর হ্যাঁ অবশ্যই ইচ্ছা পূরণের সাধনা থাকতে হবে। তবেই সাফল্য ধরা দেবে বলে মনে করেন তিনি।
এছাড়াও সামাজিক সংগঠন ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সংবাদ পাঠের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনাথ আশ্রম গড়ার ইচ্ছা জানাতেও ভুলেননি পাহাড়ি মেয়ে সোহেলি চাকমা।