মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খানের নির্দেশে ৫ উপজেলায় পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর তদারকি শুরু করছেন উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকাল থেকে ৫ উপজেলায় বিভিন্ন হাট বাজারে গিয়ে কঠোর তদারকি করেন শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজুর রহমান, মাদারীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাদিজা আক্তার, রাজৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম, কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কায়েসুর রহমান, ডাসার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.সাইদুজ্জামান হিমু।
জানা যায়, ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজ নাই বলে প্রচার করে ক্রেতাদের কাছ থেকে চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেন। এ খবর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নজরে আসলে তাৎক্ষণিক ৫ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বাজার মনিটরিং করার জন্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা স্ব স্ব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ডের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিশেষ করে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করতে বলেন।
শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান স্যার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো . রাজিবুল ইসলাম স্যারের নির্দেশে ১০ ডিসেম্বর বিকালে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা ইতিমধ্যে উপজেলার হাট বাজারে সরেজমিনে গিয়ে মনিটরিং করছি। যাহাতে কোন ব্যবসায়ী পেঁয়াজ অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে না পারেন।
রাজৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম হাট বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা আড়ত থেকে পেঁয়াজ ক্রয়ের সময় অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করবেন। কোন ব্যবসায়ী এবং দোকানী রসিদ ছাড়া পেঁয়াজ ক্রয় করবেন না। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা যাবে না। যদি এ ধরনের ঘটনা পরিলক্ষিত হয় তাহলে সেই ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে পাইকারি ও খুচরা বাজারের কাঁচা ও পাকা ভাউচার পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সাথে যারা সঠিকভাবে ভাউচার সংরক্ষণ করেনি তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। অধিক লাভের আশায় কেউ যেন উচ্চমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি ও বিধিবহির্ভূতভাবে পেঁয়াজ মজুদ না করা এবং মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় দোকানিরা নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক দামে পেঁয়াজ বিক্রির অঙ্গীকারবদ্ধ হন।
মাদারীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাদিজা আক্তার বলেন, ন্যায্যমূল্য না নিয়ে চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার দায়ে রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকালে মাদারীপুর শহরের পুরান বাজারের পাইকারি আড়তে অভিযান চালিয়ে আরিয়ান ভাণ্ডারের মালিক কাজী আতাউরকে পাঁচ হাজার টাকা ও খুচরা দোকানি জিন্নাত সরদারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করি।
এবং হাট বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলি, আপনারা আড়ত থেকে পেঁয়াজ ক্রয়ের সময় অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করবেন। কোন ব্যবসায়ী এবং দোকানি রসিদ ছাড়া পেঁয়াজ ক্রয় করবেন না। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা যাবে না। যদি এ ধরনের ঘটনা পরিলক্ষিত হয় তাহলে সেই ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডাসার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা ইতিমধ্যে উপজেলার হাট বাজারে সরেজমিনে গিয়ে মনিটরিং করছি। যাহাতে কোনো ব্যবসায়ী পেঁয়াজ অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে না পারেন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রি এবং অন্যান্য পণ্য সঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হচ্ছে। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকল্পে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ উপজেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।