টিভির পর্দায় খেলা দেখানোর সুবাদে দেশের অনেকেই পরশু রাতে এএফসি কাপে বসুন্ধরা কিংস ও ভারতের ওড়িশা এফসির খেলাটা দেখেছেন। বসুন্ধরা কিংসের জার্সির বুকে বাংলাদেশের পতাকা ছিল। ছোট সাইজের হলেও লাল-সবুজ পতাকা দেশের ফুটবলের মানুষগুলোর বুকটা ভরে দেয়।
প্রথম বারের মতো কিংসের সামনে ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ হাত ফসকে গিয়েছে আরো একবার। গ্রুপ পর্বে ওড়িশার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে এখন ঘরে বসুন্ধরা কিংস। ‘আফসোস করে এখন আর লাভ নেই’—বলছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান। রেফারির যে ভুলে সর্বনাশ হয়েছে, তা নিয়ে আফসোস নেই। তবে দল ঢাকায় ফিরলে সবার সঙ্গে কথা বলবে ক্লাব কর্মকর্তারা।
বিতর্ক তৈরি হয়েছে ম্যাচের ভিয়েতনামের রেফারির কারণে। এই রেফারি ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ ক্ষণে একটা ফাউলকে কেন্দ্র করে লাল কার্ড দেখিয়েছেন কিংসের ফুটবলার আসরর গফুরভকে। এটি নিয়ে আলোচনা ফুটবল অঙ্গনে। রেফারির দেওয়া পেনাল্টি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না। বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেছেন, ‘এটা কোনো ভাবেই লাল কার্ড হয় না। গফুরভের পা মাটিতে পড়েছে। ওড়িশার ফুটবলার ওখানে এসে থেমেছিল, তিনি পড়ে গিয়েছেন। মারাত্মক ফাউল হয়েছে, এটা বলা যাবে না। রেফারি হলুদ কার্ড দিলেই পারতেন। যেহেতু গফুরভের আগে হলুদ কার্ড ছিল না।’
লাল কার্ড ইস্যুতে ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, তারা এএফসি কাছে জানাবেন। জানিয়ে কোনো লাভ হবে না, সেটা জানা আছে ক্লাব সভাপতির। তারপরও এএফসিকে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা তো এই ম্যাচ আর ফেরত পাবো না জানি। রেফারির শাস্তি হবে কি হবে না, সেটা নিয়েও আমাদের মাথাব্যথা নেই। রেফারির প্রতি এখনো আমাদের সম্মান আছে, থাকবে। তবে ওনার একটা সিদ্ধান্তে আমাদের দলটার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা লাল কার্ড ইস্যুর ঘটনা এএফসিকে জানাব, জানিয়ে রাখব। এটা বিচার পাওয়ার জন্য নয়। জানিয়ে রাখার জন্য। এএফসি আমাদের আবেদনের সঙ্গে একমত হোক না হোক, সেটা বড় কথা নয়। আমরা এই ইস্যুটা জানিয়ে রাখতে চাই।’
এক জন সাবেক ফিফা রেফারি টিভির পর্দায় খেলা দেখেছেন। তার মতামত জানতে চাইলে তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে রাজি না। তারপরও প্রশ্ন করলে এই সাবেক রেফারির মন্তব্য—‘এ ধরনের ফাউলে পৃথিবীর কোথাও লাল কার্ড দেবে না। খুব বেশি হলে একটা হলুদ কার্ড দেবে।’ কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো সিরিয়াস ফাউল প্লে’র মধ্যে পড়ে না। এই ফাউলের স্পিড, ইনটেনসিটি বা সিভিয়ারিটি, কোনোটার মধ্যেই আসে না। সবই ছিল মিডিয়াম। এমন নয় যে, আক্রমণটা গোল মুখে ছিল। গোল হয়েই যাচ্ছিল, তা কিন্তু নয়। রেকলেস ফাউল বা বেপরোয়া ট্যাকল বলতে যা বুঝি, সেটার মধ্যেও এটি আসে না। এটাকে ড্যাম ইনজুরি বলা যাবে না।’ বসুন্ধরা কিংস থেকে জানিয়েছে, ম্যাচের ভিডিও থেকে লাল কার্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফুটেজটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরও নির্মোহ চোখে ম্যাচের অন্য বিষয়গুলোতে নজর দিয়েছে কিংস কর্তৃপক্ষ। গোলের একটা ওপেন সুযোগ নষ্ট করেছেন ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন। বক্সের ভেতর ঢুকে আকাশে মেরেছেন। ইমরুল হাসান বললেন, ‘অনটার্গেট করতে পারলেও গোল হোক না হোক, দ্বিতীয় বার চেষ্টা করা যেত।’