রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুল আলোচিত ১৩৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদন (৭১২৩/২০২১) খারিজের আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। তবে আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নিয়োগ হবে, তখন এই রিটের পক্ষ হওয়া ৭৭ জনকে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আদালত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী শাহ্ মঞ্জুরুল হক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৩৮ জনের নিয়োগ ছাড়াও রিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানকে কেনো বিচারের মুখোমুখি করা হবে কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এই রিট দায়ের করেন। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হাসান মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রিটের বিবাদী যথাক্রমে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও সাবেক উপাচার্যকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য রুল জারি করেন।
শুনানীতে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইউজিসি চেয়ারম্যান ও দুদক চেয়ারম্যানের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও সাবেক উপাচার্যের আইনজীবীগণ শুনানীতে আদালতে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই রিটের সাথে জনস্বার্থের কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া রিটকারীর সংক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ইতোপূর্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এক রায়ে বলা হয়েছে, ‘১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ দ্বারা পরিচালিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। এছাড়া সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুস সোবহানের নিয়োগ নিয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশে তার সমাধান রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
রিটকারীর পক্ষে শুনানী করেন ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পক্ষে ব্যারিস্টার এ.বি.এম আলতাফ হোসেন; সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের পক্ষে আইনজীবী ড. উত্তম কুমার দাস, এবং অ্যাডহক নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৭ জনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শাহ্ মঞ্জুরুল হক ও ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ শুনানীতে অংশ নেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী শাহ্ মঞ্জুরুল হক জানান, জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করা হলেও এখানে জনস্বার্থের কোনো বিষয় ছিল না। এছাড়া রিটকারীর সংক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। তাই রিটটি খারিজ হয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৮ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের যোগদান করানো হয়নি। এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। যা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত তাদের নিয়োগের বিষয়টি আমলে নেননি। এছাড়া সরকাটি টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অনেক বিষয় শুনানীতে এসেছে। যা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জানা যাবে। শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাসহ অন্যান্য বিষয়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।