যথাযথ মর্যাদায় ও আনন্দমুখর পরিবেশে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান হাই কমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে হাই কমিশনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত একটি তথ্য চিত্র ও প্রদর্শন করা হয়।
হাই কমিশনার তার বক্তব্যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ পরিক্রমায় সংঘটিত বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহসিকতার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “সার্বিক মুক্তির মধ্য দিয়ে একটি উদার, উন্নত, অবদানক্ষম, সমতাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। সেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন আমাদের সম্মিলিত শপথ ও অঙ্গীকারকে আরও শাণিত করতে হবে”। তিনি বিগত দেড় দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। পরিশেষে তিনি বিজয়ের সুমহান চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপম আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
হাই কমিশনের মিনিস্টার (কনস্যুলার) সেলিম মো. জাহাঙ্গীর বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙ্গালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারীগণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার দিল্লিতে সাপ্তাহিক ছুটি বিধায় আগামী ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে হাই কমিশন প্রাঙ্গণে দিবসটি উপলক্ষ্যে এক বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে স্বাগতিক দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশী কূটনীতিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।