পিরোজপুরে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৪

পিরোজপুরে নৌকা ও স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে চার জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার কদমতলা ও পৌর এলাকার ম্যালেরিয়া পুল এলাকায় পৃথক এ সহিংসতার ঘটনা  ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, দুটি ইজিবাইক ভাঙচুর ও বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে এ ঘটনার জের ধরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নৌকার সমর্থক জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলুর বাসায় গুলি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইখতেখার মাহমুদ সজলের বাসা ও অফিসে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের একদল কর্মী-সমর্থক সদর উপজেলার পাঁচপাড়া এলাকা দিয়ে শহরে ফিরছিলেন। এ সময় কদমতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী এবং পিরোজপুর-১ আসনের বর্তমান এমপি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর মুজিব অভিসহ তিন জন আহত হন। আহত অন্যরা হলেন—রনি দাস ও স্মরণ চক্রবর্তী। রনি দাসকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।

এ ঘটনার পর খবর পেয়ে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা হাতুড়ি, দা, রড, জিআই পাইপ, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে কদমতলা বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা দুটি ইজিবাইক ভাঙচুর করে। পরে শহরে আসার পথে ব্রাহ্মণকাঠী এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এসময় ম্যালেরিয়া পুল এলাকায় নৌকা মার্কার সমর্থক পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছাব্বির আহমেদেকে মারধর করে। এসব ঘটনার পর পিরোজপুর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান জানান, শহরে দুটি মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষের চার জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কারো বাসায় হামলা বা কোনো গুলির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল কদমতলা ও শহরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।