মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় ও রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর ৩২ জন বীর যোদ্ধা সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের আমন্ত্রণে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন তারা।
আগত ভারতীয় ও রাশিয়ান বীর যোদ্ধাগণ রোববার সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে সেনাবাহিনীর প্রধান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধা ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সব সদস্যের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সাবেক সেনা কর্মকর্তাগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলের প্রধান আবেগভরে তাদের স্মৃতিরোমন্থন করেন এবং এই অভ্যর্থনা ও সম্মানপ্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আবারো কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন এবং স্বাধীনতা-উত্তর সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর প্রধান রাশিয়ার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ সময় রাশিয়ান প্রতিনিধিদলের প্রধান মহান বিজয় দিবস-২০২৩ উদ্যাপনে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে ভারতীয় ও রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদল ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহিদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া আগত অতিথিরা শনিবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর প্রধানের আমন্ত্রণে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মালটিপারপাস কমপ্লেক্সে ভারতীয় ও রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেন।
এছাড়া গতকাল রবিবার বিমান বাহিনীর শাহীন হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। এছাড়া তারা নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বনানীর নৌ সদর দপ্তরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের দলনেতা মেজর জেনারেল এম আর এস মান এবং রাশিয়ান দলের দলনেতা গুবেনকো ভিটালি ভিকটোরোভিখসহ সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারত ও রাশিয়ার ডিফেন্স অ্যাটাশে, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা এবং নৌ সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, প্রতিনিধিদলের মধ্যে ৩০ জন ভারতীয় ও ২ জন রাশিয়ানসহ মোট ৩২ জন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নৌবাহিনীর প্রধান বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে ভারত ও রাশিয়া তথা তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
উল্লেখ্য, ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসা ভারত ও রাশিয়ার উক্ত প্রতিনিধিদল আগামী ১৯ ডিসেম্তর ফিরে যাবেন।