সৈয়দপুরে শীত বাড়ায় বেড়েছে পুরোনো গরম কাপড়ের চাহিদা

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পুরোনো গরম কাপড়ের চাহিদা। ফলে নীলফামারীর বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে পুরোনো কাপড়ের দোকানে বেচাকেনা জমে উঠেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর শীতবস্ত্রের ভালোই বেচাকেনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ট্রাক ও পিকআপে আসা পোশাক দোকানে ও গুদামে জমা করছেন ব্যবসায়ীরা। পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা দোকান ঘুরে দরদাম করে পুরোনো এসব শীত বস্ত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, অক্টোবর মাসে কেনাবেচা শুরু হয়ে বেচাকেনা চলে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। এখানে জ্যাকেটের বেল পাইকারি বিক্রি হয় ৮-১৫ হাজার টাকায়। এছাড়া কার্ডিগান ৬-১২ হাজার টাকা, হুডি ৩-৫ হাজার, মাফলার ২-৩ হাজার টাকা, টুপি দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা ও কম্বল বিক্রি হয় ১২-২০ হাজার টাকায়।

কাপড় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, গাইডের কাপড় তাইওয়ান, জাপান ও কোরিয়া থেকে বেশি আসে। চট্টগ্রাম থেকে এসব কিনে স্বল্প লাভে বিক্রি করি। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বাকি ও নগদে কিনে নেন। দুই বছর করোনার কারণে লাভের মুখ দেখিনি। এবার লাভের আশা করছি। খুচরা মৌসুমি কাপড় ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, শীতের সময়ে শীতবস্ত্র বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়। অন্য সময় হোটেলে কাজ করি এবং রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। শীতে মহাজনের কাছ থেকে শীতবস্ত্র নিয়ে রেললাইনের পাশে বিক্রি করি। স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলে যায়। বাড়িভাড়া ও দোকানের বাকিও পরিশোধ হয়।

জয়পুরহাট থেকে আসা সমশের আলী ও ঠাকুরগাঁওয়ের জবান আলী বলেন, এবার শীতবস্ত্রের দাম তেমন বাড়েনি। সৈয়দপুরে দাম কম। জ্যাকেট, মাফলার ও টুপি কিনে ট্রেনে এলাকায় নিয়ে যাব। কলেজ শিক্ষক শিউলি বেগম বলেন, এখানে কম দামে পোশাক পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছর পরিবারের সবার জন্য গরম কাপড় কিনতে আসি।

ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শীতে বেচাকেনা বেশি হলেও বাকি দিতে হয়। দিনদিন ব্যবসা বড় হচ্ছে। মৌসুমে অন্তত ১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেই। পাইকারি ব্যবসায়ী শের আলী বলেন, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জিসহ নানান পোশাক সারা বছর বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হয় রেললাইনের পাশে। তবে ঝুঁকি ও উচ্ছেদ আতঙ্ক নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। হকার্স মার্কেট করে দিলে ব্যবসার আরো প্রসার ঘটবে।

বস্ত্র মালিক সমিতির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ছয় জন ব্যবসায়ীর এলসি করা আছে। সৈয়দপুরে তারা আমদানি-রপ্তানি করেন। অন্যরা চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে পাইকারি কেনেন। শীতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কেনাবেচা হয়। এবারও হবে আশা করি। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। রেললাইনের ওপর যারা ব্যবসা করেন, তাদের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ জানান, তারা আবেদন করলে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সহায়তা করা হবে।