গাছে গাছে অতিথি পাখি মাদারীপুরে

শীতের আগমনে অতিথি পাখির কলতানে মুখর হয়ে উঠেছে মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা। গাছে গাছে আশ্রয় নিয়েছে অতিথি পাখি। প্রকৃতিতে লেগেছে নান্দনিক ছোঁয়া।

জেলা সদরের সিদ্দিখোলা, পেয়ারপুর বিল, তিতিরপাড়ার, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন পাখিদের মেলা বসেছে। সবুজ গাছ-গাছালিতে বছরের শীতের ৬ মাস এসব পাখি বসতে দেখা যায়। আর শীতের শুরুতে বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অগণিত পাখি আসে এখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শীত মৌসুমে বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা নাগাদ পাখিদের ওড়ার এমন নজরকাড়া দৃশ্য মাদারীপুরের সিদ্দিখোলা এলাকায়। গাছে গাছে পাখি পড়ার দৃশ্য ও পাখির কিচির মিচির শব্দ মোহিত করে তুলেছে পুরো এলাকা। অনেকেই ভিড় করছে সেই দৃশ্য দেখার জন্য। অনেকে আবার সেলফি তুলছে। আপন মনে ওড়াউড়ি করছে পাখি।

কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। দেখতে মনে হয়, এক অপূর্ব দৃশ্য।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বিচিত্র পাখপাখালির মধুময় কলতানে প্রতিদিন মুখরিত হয়ে উঠছে মাদারীপুরের বেশ কয়েকটি এখানকার জনপদ। বছর জুড়ে হরেক রকম দেশিয় পাখির সমাবেশে সরব থাকলেও, শীতে যেন নতুন প্রাণ পায় এসব অঞ্চলের পাখিরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত অতিথি পাখির দল। প্রচণ্ড শীত আর খাদ্য সংকটে অস্তিত্ব রক্ষায় হাজার মাইল পথ পার করে ছুটে আসে মাদারীপুরসহ এদেশে। প্রতি বছর নভেম্বরের শুরুতেই আসে। শীতের রেশ কেটে গেলেই বসন্তের সময়ে এসব পরিযায়ী পাখি আবারও তাদের নিজেদের চিরচেনা ভূমিতে ফিরে যায়।

অতিথি পাখির কিচির-মিচির শব্দ, ডানা ঝাপ্টানো, গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে উড়ে যাওয়া যেন প্রকৃতিতে একেবারে হারিয়ে যাওয়া। প্রকৃতির এই দৃশ্য যারা দেখেননি তারা এর আনন্দ-মর্ম ভেদ করতে পারবেন না। উপলব্ধি করতে পারবেন না এসব পাখির বৈচিত্র্য। তাই এসব পাখিদের নিধন বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়ে চলেছেন পরিবেশবাদীরা।

মাদারীপুরের ফেন্ডস অব নেচারের নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখিরা আসে একটু উষ্ণতার খোঁজে। কিন্তু সেই পাখিদের সুখের ঘরে কিছু লোক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে বন্দুকের বুলেট দিয়ে তাদের রক্তাক্ত করে। এমনটা আমরা চাই না। যারা অতিথি পাখি শিকার করবে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

আর পাখিদের নিধন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করছি অতিথি পাখিদের নিরাপদ রাখার। যদি কেউ পাখি শিকার করে তাহলে তাদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে সব ইউএনওকে বিষয়টি নজরে রাখতে বলা হয়েছে। তারপরও কেউ যদি এমন অপরাধ করে, তার যদি সঠিক তথ্যপ্রমাণ পাই, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’