দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশনকে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে হবে। এক্ষেত্রে কালো টাকা, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের প্রশ্রয় দিলে নির্বাচনে মানুষের আকাঙ্খা পূরণ হবে না।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নির্বাচনী প্রতীক নৌকার পক্ষে স্থানীয় নারী ভোটারদের সঙ্গে একাধিক উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
তাসমিমা হোসেন বলেন, আমাদেরকে অতীতের ইতিহাস মনে রেখে বর্তমান প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিনিধি বাছাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিবেক আশ্রিত হয়ে যিনি জনগণের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন এবং দেশ, এলাকা ও মানুষের জন্য অবদান রেখেছেন তাকে ভোট দেওয়া উচিত। এই এলাকার সন্তান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দীর্ঘ ৪০ বছর দেশ-জাতি ও ভাণ্ডারিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন বলে আগামীর জন্য তাকে পুনরায় সংসদে পাঠানো প্রয়োজন।
ভাণ্ডারিয়াবাসীর জন্য নিবেদিত প্রাণ মঞ্জুর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, এই এলাকা ৩০-৪০ বছর আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে পশ্চাৎপদ অবস্থা ছিলো তা সবার জানা। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ দেখে এসেছেন কীভাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনপদকে এই দীর্ঘ সময় একটি উন্নত পরিবেশে রূপ দিয়েছেন। তা বর্তমান প্রজন্ম অনুভব করতে পারে না। কারণ তারা জন্মগ্রহণ করার পর থেকে একটি গ্রামীণ জনপদকে অনেকটা শহুরে পরিবেশ ভোগ করছেন। অনেক নাগরিক সুবিধা এখানে বিদ্যমান। পাশাপাশি এক শ্রেণির সমাজবিরোধী ব্যক্তি নতুন প্রজন্মকে মাদকাসক্তি-ইভটিজিংসহ নানা চরিত্রহননমূলক অবক্ষয়ের পথে ঠেলে দিয়ে এ তরুণদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করছে। এ মাফিয়া চক্রটির হাত থেকে আগামী প্রজন্ম তথা সমাজকে বাঁচাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনীত ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়ন তথা দেশে গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা, শান্তিপূর্ণ অবস্থা অব্যহত রাখতে হবে।
তাসমিমা হোসেন বলেন, আমাদেরকে সমাজে এমন নেতৃত্ব রাখতে হবে যারা ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ ইত্যাদির প্রভেদ জ্ঞান বিবেচনায় এনে সমাজ পরিচালনা করবেন। যা উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে, রাস্তাঘাট নির্মাণ না করে ফেলে রাখে তরুণদের বিপথে পরিচালনা করে তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো পরীক্ষিত ব্যক্তিদের পাশে চান বলেই নৌকা মার্কা দিয়ে তাকে প্রার্থী করেছেন। বিগত ৪০ বছরে ১৮ বছর মন্ত্রীত্ব এবং সাত বার সংসদ সদস্য হওয়ার অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অতীতের মতো শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকবেন বলেই তাকে নৌকা মার্কার প্রার্থী করা হয়েছে। এ এলাকার জনগণকে আবারও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে ভোট দিয়ে অতীতের মতো দেশ গঠনে সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন।
পিরোজপুর-২ আসনে (কাউখালী-ভাণ্ডারিয়া-নেছারাবাদ) ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকায় শনিবার একাধিক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসব উঠান বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় মহিলা পাটির (জেপি) ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সভানেত্রী ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আখতার, পৌর কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান মুন্সি, সমাজসেবী কাজী ওয়াহেদুজ্জামান, জেপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান, বাবুল চন্দ্র রায়, দিপক চন্দ্র রায়, কহিনুর বেগম, উপাধ্যক্ষ আব্দুল কাদের সিকদার, প্রভাষক রেশমা আক্তার, শারমীন আক্তার, জামাল উদ্দিন লিটন, শাহীন সিকদার, ফোরকান আকনসহ স্থানীয় জেপি নেতা ও সমাজসেবী।
উপস্থিত ছিলেন নারী সংগঠক শাহানা ফরিদ, অনামিকা চক্রবর্তী, কহিনুর বেগম, নাসিম আকতার, শিরীন খান, ঝুমুর কাজীসহ অনেকে।