১০ বছরে একটি ঈদও সন্তানদের সঙ্গে করিনি: নিক্সন চৌধুরী

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী বলেছেন, ‘গত ১০ বছরে একটা ঈদও আমি সন্তানদের সঙ্গে করিনি। আপনাদের ৩ থানার মানুষের সঙ্গে করেছি। কিন্তু আজ যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী আপনাদের কাছে ভোট চায়, ওই সময় তারা কোথায় ছিল। একটিবারও তো আসেনি আপনাদের দেখতে। এখন ভোটের সময় এসে ভোট চায়, লজ্জা করে না।’

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) রাত নয়টার দিকে সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মজুমদার বাজার ফকিরবাড়ি ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে নিক্সন চৌধুরীকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ছবি: ইত্তেফাক

উঠান বৈঠকের আয়োজন হলেও সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনসভায় রূপ নেয়।

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘করোনার সময় যখন ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে ভাই যায়নি, তখন আমার বৃদ্ধ মা ও শিশু সন্তানকে রেখে নিজে গাড়ি চালিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি, দিনমজুর ভাইদের খাবার ব্যবস্থা করেছি, যারা লাইনে দাড়িয়ে খাবার নিতে পারে না তাদের জন্য হটলাইন চালু করেছি। ফোন করলে বাড়ির উঠানে খাবার পৌঁছে দিয়ে এসেছি।’

স্থানীয় জনসাধারণের অংশ নেওয়ায় উঠান বৈঠক ক্রমেই জনসভায় রূপ পায়। ছবি: ইত্তেফাক

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আপনারা উন্নয়নে ভোট দেন, তাহলে সেই ভোটের দাবিদার আমি নিক্সন। আপনাদের ভোট আমার হক। নিক্সন চৌধুরীকে যদি ভোট না দেন, তাহলে আগামীতে কোনো এমপি উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কোনোটাই করবে না।’

‘আজ যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী আপনাদের কাছে ভোট চায়, ওই সময় তারা কোথায় ছিল। একটিবারও তো আসেনি আপনাদের দেখতে। এখন ভোটের সময় এসে ভোট চায়, লজ্জা করে না’
- নিক্সন চৌধুরী
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, ফরিদপুর-৪ আসন

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘প্রতি বছর আমার নির্বাচনী এলাকার ৪-৫ ইউনিয়ন বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায়, মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। কোনোদিন তো ওই হেভিওয়েট প্রার্থীকে দুই কেজি চাল নিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেননি, আমি তো নিজে চালের বস্তা মাথায় নিয়ে বোট নিয়ে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়ে আসছি।’

স্থানীয় জনসাধারণের অংশ নেওয়ায় উঠান বৈঠক ক্রমান্বয়ে জনসভায় পরিণত হয়। ছবি: ইত্তেফাক

ফরিদপুর-৪ আসনের এই প্রার্থী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এক বোন আমার দাদি, আরেক বোন আমার নানি। আমার মা-বাবা আপন খালাত ভাইবোন। আমার শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত। আমরাই নৌকার লোক।’

বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে স্থানীয় জনসাধারণ। ছবি: ইত্তেফাক

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোকাদ্দেস ফকিরের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য ইখলাস ফকির, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহেদীদ গামাল লিপু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিনিয়া নাজনীন কল্পনা, সংরক্ষিত জেলা পরিষদ সদস্য কোহিনুর বেগমসহ সদরপুরের একাধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।